মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরবাসী

সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, চট্টগ্রাম অফিস

মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ চট্টগ্রাম নগরবাসী। গত প্রায় এক মাস ধরে এই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ফেব্রুয়ারিতে শীতের রেশ কেটে যাওয়ার আগে থেকে মশার যে প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল মধ্য মার্চে এসেও তা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। মশার কয়েল, নানা ব্র্যান্ডের ইনসেক্টিসাইড, ধূপ-ধোঁয়া কোনো কিছু ব্যবহার করেই মশার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না নগরবাসী।

এ নগরীতে বসবাস করেন প্রায় ৬০ লাখ নানা শ্রেণি ও পেশার মানুষ। সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িঘরে ঢুকে পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে মশা। সন্ধ্যা থেকেই মশারির নিচে আশ্রয় নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে নগরবাসীকে। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মশাবাহিত রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়ারও। মশা নিয়ে প্রতিদিনই অভিযোগ বেড়ে চলেছে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের। তারা জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নবনির্বচিত প্রতিনিধিদের মধ্যে নগরবাসীকে মশার তাণ্ডব থেকে রক্ষায় কোনো ধরনের উদ্বেগ-তত্পরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। নানা সভা-সমাবেশে মেয়র-কাউন্সিলরগণ দোষ দিচ্ছেন বিভিন্ন স্থানে খাল, নালা-নর্দমার মুখ বন্ধ করে নগরীর খাল ও নালা-নর্দমা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের প্রক্রিয়ার ওপর। তারা জনবসতির আশপাশে অপরিচ্ছন্নতার কথা তুলে ধরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কথাও বলছেন। পাশাপাশি বলছেন বদ্ধ জলাশয় ও উন্নয়নের কারণে আটকা পড়া পানিতে সিটি করপোরশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীদের ওষুধ ছিটানোর তত্পরতার কথা। কিন্তু নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওষুধ ছিটানোর কাজে সিটি করপোরেশন কর্মীদের তত্পরতা বিশেষ করে বাসাবাড়ির আশপাশে এখনো দৃশ্যমান নয়।

এদিকে আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, এ সময়টাকে বৃষ্টিপাতের তেমন একটা সম্ভাবনা নেই। ফলে মুষলধারে বৃষ্টির পানিতে মশার প্রজননস্থল ভেসে গিয়ে নগরী পরিচ্ছন্ন ও মশকমুক্ত হয়ে উঠবে এমন সম্ভাবনাও আগামী দেড় দুই মাসের মধ্যে নেই।

পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরিফ চৌহান বলেন, মশা নিয়ন্ত্রণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন যে পরিমাণ আর্থিক ব্যয়-বরাদ্দ ও তত্পরতার কথা বলছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ শফিকুল মন্নান সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবছরই এ সময়টাতে মশার উপদ্রব বাড়ে। নগরীর বড় বড় খালগুলোর মুখ বন্ধ করে সেগুলোর উন্নয়ন কাজ চলায় এবং বিভিন্ন স্থানে নালা-নর্দমার উন্নয়ন কাজ চলায় জমাট পানিতে মশার বিস্তার ঘটছে। তবে সিটি করপোরেশনের ১২০ জন কর্মীকে এসব স্থানে মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করার জন্য লার্ভিসাইট স্প্রে করার কাজে নিয়োজিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিবছর মশক নির্মূল খাতে  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বড় অঙ্কের টাকা খরচ করে। চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরেই মশকনিধন কার্যক্রমের জন্য ওষুধ ও মালামাল ক্রয় খাতে সাড়ে ৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে গত নভেম্বর মাসে প্রায় ৫ কোটি টাকার ওষুধ কেনা হয়। এ ছাড়া ফগার মেশিন বাবদ খরচ করা হয়েছে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে চসিকে আছে ১৫০ জন স্প্রেম্যান, উন্নতমানের ১৬০টি ফগার মেশিন ও প্রায় ৪০০টি সাধারণ স্প্রে মেশিন। তবে নগরবাসীর আক্ষেপ মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের এতো আয়োজনের পরও মশার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মিলছে না নগরবাসীর। অচিরেই মশার উপদ্রপ থেকে মুক্তি চান তারা।