দুই দেশের দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়া উচিত :প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্ভাবনার        চেয়ে অনেক কম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে যৌথ ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের এখন দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) যাওয়া উচিত।

এদিকে দুই দেশের যুব উন্নয়ন, কৃষি, কারিগরি শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ঢাকা ও কলম্বোর মধ্যে ছয়টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হয়েছে। এগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যুব উন্নয়ন জোরদারে সহযোগিতা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ (বিএআরসি) এবং শ্রীলঙ্কার কাউন্সিল ফর অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসি (এসএলসিএআরপি)-এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শ্রীলঙ্কার টার্সিয়ারি অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন কমিশন (টিভিইসি)-এর মধ্যে কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক। অন্যান্য সমঝোতা স্মারক হচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এবং লক্ষ্মণ কাদিরগামার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন অ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা এবং ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময় সমঝোতা চুক্তি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। আনুষ্ঠানিক বৈঠক শুরুর পূর্বে দুই নেতা একান্তে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। এর আগে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছলে শেখ হাসিনা টাইগার গেইটে তাকে স্বাগত জানান। রাজাপক্ষে শুক্রবার সকালে দুদিনের সফরে ঢাকা পৌঁছান। গতকাল সন্ধ্যায় তিনি নিজ দেশের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন।

বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশে বিনিয়োগে শ্রীলঙ্কান উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের পাওয়ার সেক্টরে বিনিয়োগ করেছে। আমরা শ্রীলঙ্কান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং হাইটেক পার্কগুলোতে আরো বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই। ধানচাষ, মিঠা পানির মাছচাষসহ কৃষি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ আমদানি করে শ্রীলঙ্কা লাভবান হতে পারে। আগামী বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে দুই দেশের বিদ্যামান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রীলঙ্কা সফরের আমন্ত্রণ জানান রাজাপক্ষে। তিনি বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সেক্টর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জাতির পিতার প্রতি মাহিন্দা রাজাপক্ষের শ্রদ্ধা নিবেদন

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২-এ অবস্থিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে এই শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পাঞ্জলি অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি পরে পরিদর্শক বইয়েও স্বাক্ষর করেন।