নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে যা করবেন

পরিবারের কেউ হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পেতে চেষ্টার কমতি থাকে না। প্রায়ই দেখা যায় হারানো ব্যক্তির সন্ধানে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, রাস্তাঘাট, দোকানপাটসহ দেয়ালে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে থানা পুলিশসহ স্বজনদের কাছে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে আরও কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।

হঠাৎই কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়া ঠুনকো ব্যাপার নাও হতে পারে। এমনকি ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র জড়িত থাকতে পারে। তাই কোনো পরিবারের কেউ হারিয়ে গেলে বিলম্ব না করে থানায় অবগত করে একটি সাধারণ ডায়রি বা জিডি করতে হবে। থানা থেকে জিডির কপিটি সংরক্ষণ করুন। আর যদি নিখোঁজ ব্যক্তি অপহৃত হয়েছে এমন সন্দেহ হয় তাহলে জিডি না করে এফআইআর বা এজহার করাটাই উত্তম। এজহার দায়েরের মাধ্যমে থানায় মামলা করতে হবে। এতে নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে আইনগত সহায়তায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজহারে অপহৃত ব্যক্তি কি কারণে নিখোঁজ হয়েছেন এই সংক্রান্ত যৌক্তিক কারণ, যাদের সন্দেহ হয় তাদের নাম পরিচয় উল্লেখ করতে হবে। 

এজহার করার সময় আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কেন না অপরাধী পরবর্তীতে ধরা পড়লে এজহারে অপরাধের সঠিক বর্ণনা না থাকলে উচ্চ আদালতে গিয়ে খারিজ হয়ে যেতে পারে। আর যদি মোবাইল অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে নিখোঁজ ব্যক্তির মুক্তিপণ হিসেবে কোন অর্থ দাবি করা হয় সেটি সঙ্গে সঙ্গে আইন শৃঙ্খলা-বাহিনীকে জানাতে হবে। সুনির্দিষ্ট অপরাধ হওয়ায় আইন শৃঙ্খলা-বাহিনী আপনাকে সার্বিক সহযোগিতা করতে বাধ্য।

আবার অনেক সময় যারা নিজের নাম-পরিচয় বলতে পারে না এমন ব্যক্তিকে পুলিশ তাদের হেফাজতে রাখেন। আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে সরকারি সদনেও রাখা হয়। বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলাদা আলাদা নন-এফআইআর শাখা থাকে। ওখানে অনেক সময় নাম পরিচয়হীন, শারীরিক প্রতিবন্ধী, মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হয়। তাই এই শাখায় খোঁজ খবর নেওয়া যেতে পারে। ঢাকাস্থ তেজগাঁও থানায় ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারেও খোঁজ নিতে পারেন। বেশিরভাগ সময়ই এমন ব্যক্তিদের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়ে থাকে। সুতরাং নিখোঁজ ব্যক্তির খুঁজে পেতে প্রাথমিক খোঁজাখুঁজির সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আইনের আশ্রয় ভুলবেন না।

ইত্তেফাক/ইউবি/এসজেড