ইত্তেফাক রিপোর্ট
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের কর ফাঁকি রোধে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)। গতকাল রবিবার এনবিআর ভবনে প্রাকবাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে আইসিএবি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ উল হাসান খসরু সংগঠনের পক্ষে এমন দাবি করেন। প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত কোনো বিদেশি নাগরিককে দেশের কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে হবে। এক্ষেত্রে আর্থিক জরিমানাসহ এনবিআর থেকে প্রাপ্ত সমস্ত সুবিধা, যেমন—হ্রাসকৃত করের হার, বন্ড-সুবিধা ইত্যাদি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। তাছাড়া অন অ্যারাইভ্যাল ভিসা নিয়ে আগত বিদেশি নাগরিকদের কঠোর নজরদারির আওতায় রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পারমানেন্ট স্ট্যাবলিশমেন্টের (পিই) সংজ্ঞায় নতুন বিধান সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে মাহমুদ উল হাসান খসরু বলেন, দ্বৈত কর চুক্তি অনুযায়ী কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নকাল ১৮৩ দিনের বেশি চললে উক্ত প্রকল্পকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে অবস্থিত পিই বলা হয়। দেখা গেছে পিই হওয়া বিষয়টি এড়ানোর জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের বিভিন্ন কর্মীকে স্বল্প সময়ের জন্য বাংলাদেশে প্রেরণ করে যাতে তাদের কারোই বাংলাদেশে এককভাবে অবস্থানকাল ১৮৩ দিনের বেশি না হয়, এভাবে কর ফাঁকি দেয়। কাজেই, এ সংক্রান্ত আইনের ধারা পরিবর্তন করা প্রয়োজন। এছাড়াও দ্বৈত কর চুক্তির সংশোধন কাজও শুরু করা দরকার। পিই এর সংজ্ঞায় নতুন এরূপ বিধান সংযোজন প্রয়োজন যা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ব্যক্তিগত বা সম্মিলিতভাবে বাংলাদেশের অবস্থানকালের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রস্তাবনায় দালান ও ফ্যাক্টরি দালান অবচয়ের হার ১০ ও ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ ও ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে উচ্চ হারে অবচয় প্রদানের কারণে করদাতা শুরুর বছরগুলোতে কম কর প্রদান করে। তাই অবচয় হার কমানোর প্রস্তাব করা হয়।
এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও করেছে আইসিএবি। সংগঠনটি মনে করে, করপোরেট কর হার হ্রাস করলে বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক হবে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।