বিশ্বব্যাপী ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবার মধ্য দিয়েও আমরা এবার দেশ জুড়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। পুরো দেশ আজ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। বিগত কয়েক মাসে করোনা কিছুটা দুর্বল হলেও চলতি মাসের শুরু থেকে করোনা আবারও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তাই সরকারের দেওয়া পদক্ষেপ অনুসরণ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা এবার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন করব। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। বাঙালির হাজার বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল, দাসত্বের গণ্ডি ভেদ করে স্বাধীনতার লাল সূর্যের রঙের সঙ্গে মিশে আছে ৩০ লাখ শহিদের রক্ত, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম হারানোর বেদনা এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মাশুল। এবার স্বাধীনতা অর্জনে ৪৯তম বছরের শেষ প্রান্তে এসে বিনম্র শ্রদ্ধা ও অবনত চিত্তে বীর শহিদদের স্মরণ করেছে জাতি। বাঙালির গৌরবোজ্জ্বল স্বাধীনতা, দেশ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে পাকিস্তানি পরাজিত শত্রু এবং এদেশীয় বিশ্বাসঘাতক, উগ্র জনগোষ্ঠী। স্বাধীনতা অর্জনের ৪৯ বছরের শেষ প্রান্তের পথচলায় দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। একাত্তরে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা একটি স্বতন্ত্র ও সার্বভৌম দেশ পেয়েছি। আর তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাণবন্ত নেতৃত্বে গড়ে তুলতে চলেছি সমৃদ্ধ ও উন্নয়নশীল বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা ভোগ করেছে। যা জাতির জন্য এক মহান গৌরবের বিষয়।
যাদের আত্মত্যাগ ও স্বজন হারানোর বেদনার মধ্য দিয়ে আমরা স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। তাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি স্বাধীনতার মহানায়ক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব ও সংগঠকদের। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যেসব ভারতীয় সেনাবাহিনী এই মাটিতে জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন, তাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক প্রতিটি সূচকে এগিয়েছে বাংলাদেশ। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই ক্ষণে সমৃদ্ধির এ ধারা ধরে রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের আগে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শিক্ষা খাতের বিনিয়োগকে বঙ্গবন্ধু সর্বোত্কৃষ্ট বিনিয়োগ বলেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পদক্ষেপে। দেশের শিক্ষা খাতে ব্যাপক সফলতা অর্জিত হয়েছে। করোনাকালে পুরো বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশেও এর রেশ বহমান; কিন্তু ডিজিটাল বিশ্বের ছোঁয়া এখন বাংলাদেশে। যার ফলে দেশে অনলাইনে ক্লাস চলেছে, শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে অনলাইনে ক্লাস করতে পারছে। বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি ৮০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে। একই সঙ্গে বেড়েছে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যাও। তৈরি পোশাকে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ হিসাবে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। ৪০ লাখের বেশি শ্রমজীবী এ খাতের পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।
ইতিমধ্যেই আমরা অর্থনৈতিকভাবে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে উত্তরণ ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। স্বাধীনতার পর থেকেই বয়ে বেড়ানো ‘স্বল্পোন্নত’ তকমা ঝেড়ে ফেলাও এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। একদা বৈদেশিক অনুদান ও লোন ছাড়া মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন অকল্পনীয় ছিল। এখন আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা বহুমুখী সেতুর মতো বড় বড় প্রকল্প আমরা বাস্তবায়ন করতে পেরেছি। প্রসঙ্গগত, বাংলাদেশের সব গ্রামকে সাজানো হচ্ছে শহরের আদলে সব সুযোগ-সুবিধা দিয়ে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে এসে জাতির প্রত্যাশা হবে জাতীয় এই অর্জনগুলোকে ধরে রাখা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপব্যবহার রোধ করা এবং মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করাসহ ব্যাপক প্রসার ঘটাতে হবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে। মনে রাখতে হবে, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। তাই নব উদ্যমে এসব নতুন আশা ও স্বপ্ন নিয়েই উদ্যাপিত হোক স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।
n লেখক :শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ। হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর