কর্ণফুলীতে বেপরোয়া গ্যাস চুরি, শতকোটি টাকা বকেয়া

কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত কিছু কর্মকর্তার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দুদক তদন্ত করছে। এ নিয়ে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোম্পানির ভালো মন্দ কর্মকাণ্ড নিয়ে কেউ মিডিয়ার কাছে মুখ খুলছে না। বিভিন্ন গ্রাহক ও প্রতিষ্ঠানের কাজে শত শত কোটি টাকা বকেয়া পড়ে থাকলেও আদায়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরি হচ্ছে দেদারছে। শিল্পে নতুন সংযোগ নিয়ে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। চুরি বন্ধে একাধিক ভিজিল্যান্স টিমের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকারিতা দেখা যাচ্ছে না।

প্রতিষ্ঠানের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সমন্বয় সভায় কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানি কার্যক্রম নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেদারছে গ্যাস চুরি ও বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোম্পানির দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছে। তার পরও কাজেকর্মে গতি আসছে না। কোম্পানির বকেয়া ও গ্যাস চুরি বিষয়ে জানতে চাইলে রাজস্ব বিভাগের কোনো কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও অপারগতা প্রকাশ করেছেন। এমনকি তা কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। কার্যক্রম নিয়ে লুকোচুরি মনোভাব দেখা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কোম্পানি দায়িত্বশীল অন্যান্য কর্মকর্তারাও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে কর্তৃপক্ষের নিষেধের কথা জানান।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী গ্যাস কোম্পানির মাধ্যমে গ্যাস বিপণন করা হয়। কোম্পানি আওতায় বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ আবাসিক গ্রাহক সংযোগ ও কয়েক হাজার শিল্প ও বাণিজ্যিক সংযোগ রয়েছে। গত ১০ বছর যাবত চট্টগ্রামে আবাসিকে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। প্রায় ২৫ হাজার আবাসিক সংযোগের আবেদন ঝুলে রয়েছে। এসব আবেদনকারী ডিমান্ড নোটের টাকা পরিশোধ করেও সংযোগ পাচ্ছে না। সরকার এরই মধ্যে আবাসিকে নতুন সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের ডিমান্ড নোটের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস চুরিও বেড়েছে। কোম্পানির রাজস্ব বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে অবৈধ সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ গ্যাস সংযোগ ও বকেয়া আদায়ের জন্য কোম্পানির একটি পৃথক ভিজিল্যান্স বিভাগ রয়েছে। এ বিভাগে আলাদা জনবলও রয়েছে। এক সময় অবৈধ সংযোগ বন্ধে ভিজিল্যান্স টিমের ব্যাপক কার্যক্রম দেখা গেছে। কিন্তু গত কয়েক মাস যাবত টিমের কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। ফলে কোম্পানি বকেয়া বিলের পরিমাণ  ও গ্যাস চুরি বেড়েই চলেছে। বিপুল পরিমাণ গ্যাস বিলের টাকা বকেয়া রেখেও গ্যাস ব্যবহার করে চলেছে।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় গত কয়েক মাস যাবত চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। গ্যাসনির্ভর বিদ্যুেকন্দ্রগুলোতে উত্পাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। এলএনজি আসার আগে চট্টগ্রামে জাতীয় গ্রিড থেকে  গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হতো। এখন চাহিদার অর্ধৈক গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে শিল্পকারখানায় উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে।