শরীয়তপুর জেলা জজ আদালতের সাবেক পিপি (সরকারি কৌঁসুলি) হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ মামলায় ৫২ আসামির মধ্যে ১৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ছয় ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড, চার ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন ও তিন ব্যক্তিকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. শওকত হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন শহীদ কোতোয়াল, শাহিন কোতোয়াল, শফিক কোতোয়াল, শহীদ তালুকদার, সলেমান সরদার ও মজিবর রহমান তালুকদার। আর সরোয়ার হোসেন বাবুল তালুকদার, ডাব্লু তালুকদার, বাবুল খান ও আব্দুর রশিদ ওরফে টোকাই রশিদকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মন্টু তালুকদার, আসলাম সরদার ও জাকির হোসেন মজনুকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শহীদ তালুকদার, শাহীন কোতোয়াল, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাবুল তালুকদার, আব্দুর রশিদ ও দুই বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জাকির হোসেন মজনু পলাতক রয়েছেন। এছাড়া রায়ে মামলার ৩৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে হাবীবুর রহমানের ছেলে পারভেজ রহমান জনের সমর্থকেরা। এরপর দুপুর আড়াইটা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মাদারীপুর-শরীয়তপুর সড়ক অবরোধ করে রাখে। বিক্ষোভ ও অবরোধকারীরা এ রায় প্রত্যাখ্যান করে সব আসামির মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় শহরে হাবীবুর রহমানের বাসভবনে আওয়ামী লীগের সভা চলাকালে সেখানে হামলা চালান যুবলীগের সাবেক নেতা সরোয়ার হোসেন বাবুল তালুকদারের লোকজন। তখন হাবীবুর রহমান ও তার ভাই মনির হোসেন খুন হন। হাবীবুর রহমান তখন আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মনির হোসেন ছিলেন পৌরসভা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
হাবীবুর রহমানের স্ত্রী জিন্নাত রহমানের করা হত্যা মামলায় মোট ৫৫ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। পুলিশ তদন্ত শেষে আওয়ামী লীগের নেতা আওরঙ্গের নাম বাদ দিয়ে ২০০৩ সালে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। মামলার বাদী তখন আদালতে নারাজি দিলেও ঐ আবেদন নামঞ্জুর করেন।
হাবীবুর রহমানের ছেলে শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র পারভেজ রহমান জন বলেন, ‘এ রায়ে আমরা খুশি হতে পারিনি। যারা আমার বাবা ও চাচাকে হত্যা করেছেন, তাদের অনেকেই খালাস পেয়েছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
বর্তমান পিপি মির্জা মো. হযরত আলী বলেন, মামলার রায়ের কপি পাওয়ার পর তা নিয়ে হাবিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমার মক্কেলরা এ মামলায় ন্যায়বিচার পায়নি। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাব।’