পানির অপর নাম জীবন। জীবনের অধিকার মানে পানির অধিকার। পানি ছাড়া জীবনের অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। তবে পানির সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। যতই দিন যাচ্ছে এ সংকট আরো তীব্র হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে এ সংকট। বিশ্বের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠী পানি সংকটে রয়েছে। আর সুপেয় পানির সংকটে রয়েছে ৭৬ কোটিরও বেশি মানুষ। আজ ২২ মার্চ সোমবার। বিশ্ব পানি দিবস। বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালনের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পানির প্রতি গুরুত্ব প্রদান করতে এবারের পানি দিবসের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে ‘পানির মূল্যায়ন’।
এক পরিসংখ্যান বলছে, সুপেয় পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বিশ্বে প্রতিদিন পাঁচ বছরের কম বয়সি প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিশুর মৃত্যু ঘটছে। অন্য পরিসংখ্যান বলছে, এ সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজার হবে। তার মানে শিশুরা পানি সংকটের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। সুপেয় পানি প্রাপ্তির সুযোগ বর্তমানে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। জাতিসংঘ পানি অধিকারকে মানবাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছে। নিরাপদ পানির অধিকারবঞ্চিত বিপুল জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই আবার চরম দরিদ্র। প্রান্তিক এ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ বাস করে গ্রামে। সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছে নারী ও শিশুরা। এশিয়া ও আফ্রিকার সংকট ভয়াবহ। আজ দিবসটি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষম হবে, এটাই সবার প্রত্যাশা।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব পানি দিবস’ উদ্যাপনের উদ্যোগকে রাষ্ট্রপতি স্বাগত জানান। বিশ্ব পানি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, জীবনের মূল উপাদান হচ্ছে পানি। এই পানি ব্যবস্থাপনার ওপর খাদ্য নিরাপত্তা অনেকাংশে নির্ভরশীল। বাংলাদেশের কৃষি, বনজ, প্রাণী ও মত্স্য উন্নয়নে পানি প্রধান উপাদান। কৃষিসহ দৈনন্দিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূ-গর্ভস্থ পানি ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পানির স্তর ক্রমশ নেমে যাচ্ছে। ভূ-উপরিস্থ পানির অপ্রতুলতার কারণে ভূ-উপরিস্থ ও ভূ-গর্ভস্থ পানির সমন্বিত ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আবদুল হামিদ বলেন, পানির সঙ্গে জলবায়ুর রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। গৃহস্থালি, কলকারখানা, কৃষিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পানির ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
ইত্তেফাক/কেকে