নওশীন শর্মিলী
মোমোর অথেনটিক রেসিপি মূলত ‘রেডমিট’ বা লাল মাংসের পুর। কিন্তু কালের বিবর্তনে মোমোর ধরন বদলেছে, এখন ভেরিয়েশান এসেছে। চট্টগ্রামের ফাহা’স কিচেনে এখন ৯০ রকমেরও বেশি মোমো পাওয়া যায়; যার মধ্যে সিদ্ধ (বয়েলড), স্টিম (ভাপা), ফ্রাইড (ভাজা), ক্রিস্পি (কুড়মুড়ে), গ্রেভি (ঝোল), সিজলিং (পোড়া), মালাই, চিলি অয়েলে ডুবোনো, সেচুয়ান, ওভেন বেইকড, চিজি অপশন রয়েছে। ধরন অনুযায়ী মোমোগুলোর দামও ভিন্ন, যে কারণে পুরো দেশেই ফাহা’স কিচেনের মোমো এত সুনাম কুড়াচ্ছে। এছাড়াও এ রেস্টুরেন্টের আরো একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কর্মরত সকলেই নারী।
বিগত দুই বছর ধরে পুরো দেশে মোমোর জন্য ফাহা’স কিচেনের পরিচিতি এখন মুখে মুখে; ফেসবুক ফুড রিলেটেড গ্রুপগুলোতে যখনই কেউ পোস্ট দেয় বেস্ট মোমো কোথায় পাওয়া যাবে—তখন অবলীলায় সবাই কি-বোর্ড চেপে মেনশান ট্যাগ করে ফাহা’স কিচেনের নামটাই লিখে থাকে। অবশ্য এর কারণও বেশ সহজ। ৯০ রকমেরও বেশি মোমো বিক্রি হয় এই রেস্টুরেন্টে। প্রত্যেকটি মোমোর স্বাদ একটি থেকে অন্যটি আলাদা। রেস্টুরেন্টটির ইন্টেরিয়রও বেশ খোলামেলা। পরিবার বা অফিস মিটিংয়ের জন্য পছন্দের জায়গা সবার।
কেন বলছি দেশসেরা— ফাহা’স কিচেনের মোমোগুলোর প্রাপ্তিস্থান চট্টগ্রামে হলেও এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়েছে ঢাকা সহ সব বড় শহরে। অনলাইনের যুগে এটা অসম্ভব কিছু নয়, যারা চট্টগ্রামে থাকেন না তারাও এই মোমোর স্বাদ নেওয়ার আশায় থাকেন, আর সুযোগ পেলেই এই মোমোর স্বাদ নিতে চলে আসেন চট্টগ্রামে। এর বাইরেও যাদের জাপান, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের সিকিম, দারজিলিংয়ের মতো জায়গায় মোমো খাওয়ার অভিজ্ঞতা আছে, তারা যখন ফাহা’স এর মোমো খেয়ে তাদের সেরা অভিজ্ঞতার কথা জানান তখন অনুভুতিটা হয় ভিন্ন। তাদের মতে, নেপাল বা সিকিম, কলকাতার মোমোর চাইতেও বেশি স্বাদের এই মোমো।
পুরো দেশে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের একটি রেস্টুরেন্টেই ৯০ রকমেরও বেশি মোমো পাওয়া যায়। সেই হিসেবে দেশের সেরা মোমো এখন চট্টগ্রামে, গুগলে কিংবা ফেসবুকে সেরা মোমো অপশান সার্চ করলেই ঘুরে ফিরে স্ক্রিনে ভেসে উঠে ফাহা’স কিচেনের নাম। খুব কম সময়ে গুগুল রিভিউয়ে ৫ তারকা খ্যাতিতে অনন্য এই রেস্টুরেন্ট আর এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের পুরোটাই নারীদের।
ফাহা হোসাইন একজন ফুড ফটোগ্রাফার, কাজ করেছেন বাংলাদেশের সকল জনপ্রিয় পত্রিকা এবং ম্যাগাজিনে রেসিপি কন্ট্রিবিউটর হিসেবে। ভিন্নধর্মী বলার অন্যতম কারণ হলো এই রেস্টুরেন্টে কর্মরত সকলেই নারী; পড়াশোনা করছে এমন মেয়েদের মাধ্যমে পরিচালিত এই রেস্টুরেন্টের গঠনশৈলী এবং পুরো পরিবেশ অনেকটাই দেশের বাইরে রেস্টুরেন্টগুলোর মতো।
ফাহা’স কিচেনের লোকেশান চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের আজিজ কোর্টের ২য় তলায়। রেস্টুরেন্টটি যাত্রা শুরু করে ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল। এদের বৈশিষ্ট্য প্রতিটি রেসিপি পুরোপুরি তাদের নিজেদের তৈরি এত এত স্বাদের মোমো বিক্রির জন্য ইতোমধ্যে তারা ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছে দেশজুড়ে। এরা মূলত অদক্ষ, পড়াশোনায় আছে এমন মেয়েদের শেফ হিসেবে নিয়োগ দেয়, যা এ দেশে সচরাচর দেখা যায় না।
মূলত ফাহা হোসাইন এবং তার ব্যবসায়ী স্বামী দেলোয়ার হোসাইনের মালিকানায় এই রেস্টুরেন্ট। বেশ খোলামেলা পরিবেশ, যেখানে পরিবার নিয়ে অনায়াসে বেশ দীর্ঘ সময় কাটানো যায়।
প্রতিটি মোমোই ভিন্ন ভিন্স্বাদের। এছাড়া তাদের খাবার পরিবেশনের ধরনের কারণেও বেশ জনপ্রিয়। খাবারগুলো পরিবেশন করা হয় খুব প্রফেশনাল উপায়ে। স্টিম মোমো পরিবেশনের জন্য তারা ব্যবহার করে থাইল্যান্ডের বিশেষ বাঁশের স্টিমার। ভাজা মোমো পরিবেশনের জন্য তারা ব্যবহার করে পাবনার বেতের ঝুড়ি।