‘২০ লাখ টাকা চাঁদা দিবি, নইলে নির্মাণ কাজ বন্ধ’

রাজধানীর কলাবাগানের একটি চাঁদাবাজ গ্রুপ এক ভবন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। এই চাঁদাবাজ গ্রুপের হুমকির মুখে কলাবাগান থানাধীন কাঁঠালবাগানের চায়না গার্ডেন সিটি ডেভেলপার্স কোম্পানির নির্মাণাধীন ১০ তলা বিশিষ্ট সিজিডিএল-সোনারগাঁও টাওয়ার, সাত তলা বিশিষ্ট সিজিডিএল টাওয়ার-১ ও শ্যামলীর ২ ও ৪ নম্বর রোডের ১২/চ/১/এ নম্বরে নয় তলা বিশিষ্ট সিজিলি-গোধূলী ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। ২০ লাখ চাঁদা দাবি করায় চায়না গার্ডেন সিটি ডেভেলপার্স কোম্পানির প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার আফাজুর রহমান বাদি হয়ে রবিবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেছেন। 

মামলায় আসামি করা হয়েছে ৮ জনকে। এরা হলেন নাসির উদ্দিন, ওমর সরকার অন্তু, আতিকুর রহমান, মামুন, কাউছার, শাকিল, নিয়ামত হোসেন রাজু ও জয়। এদের মধ্যে আতিকুর রহমান ২৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক। নিয়ামত হোসেন রাজু শেরেবাংলা নগর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

এ ব্যাপারে মামলার বাদি প্রকল্প ইঞ্জিনিয়ার আফাজুর রহমান বলেন, গত ১২ সেপ্টেম্বর এই চাঁদাবাজ গ্রুপটি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে নির্মাণ বাবদ ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের মধ্যস্থতা করলে তারা চাঁদা দাবি বন্ধ করে দেয়। ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ চলার পর তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। গত শনিবার নাসির উদ্দিন ও ওমর সরকার অন্তুর নেতৃত্বে ৭/৮ জন শ্যামলী ২ নম্বর রোডের সাইট অফিসে এসে হামলা চালায়। তারা ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দিলে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমানকে জানানো হয়। পরে রবিবার রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় তারা মামলা করেন। 

মামলার ১ নম্বর আসামি নাসির উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, কাঁঠালবাগান ও শ্যামলীতে নির্মাণ করা ভবনের জমির মালিক তার বোনের স্বামী ওমর সরকার অন্তু। নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার প্রশ্নই ওঠে না। বরং তাদের নির্মাণকাজের অনেক ত্রুটি রয়েছে। এ ব্যাপারে রাজউকের কাছে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়। রাজউক ওই নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে জমির মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। চায়না গার্ডেন সিটি ডেভেলপার্স কোম্পানির নির্মাণ কাজের অনেক ক্রুটি রয়েছে। তারা ভবন নির্মাণে রাজউকের ডিজাইন অনুসারে কোনো বেজমেন্ট স্থাপন করেনি। ভবনগুলোতে লিফট ও জেনারেটর অত্যন্ত নিম্নমানের স্থাপন করা হয়েছে। টাইলস লাগানো হয়েছে নিম্নমানের। বিষয়গুলো নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা হয়েছে। পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার হারুনুর রশিদও বিষয়টি জানেন। তাহলে জমির মালিক হয়ে আমরা কিভাবে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি করবো? 
ইত্তেফাক/এমএএম