মানসম্পন্ন খাবার পানির জন্য চাই দূষণমুক্ত নদী

ওয়েবিনারে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

দেশে নদী রক্ষায় আইন থাকলেও তার শক্ত বাস্তবায়ন নেই। একদিকে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের নদীগুলো প্রতিনিয়তই দখল ও দূষণে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। ফলে প্রকট হচ্ছে পানির সংকট। দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ঠিকমতো পানি সরবরাহ করতে হলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। খাবার পানির মান ঠিক রাখতে হলে দেশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। গতকাল ‘বিশ্ব পানি দিবস-২০২১’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত ‘কেমন আছে বাংলাদেশের নদী’ শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ সব কথা বলেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলন, জাতীয় নদী জোট, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওর, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্স সেন্টার এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে। সভাপতির বক্তব্যে বাপার সভাপতি মানবাধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা আইনের সমভাবে প্রয়োগ। যার ফলে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদগুলোকে বাঁচাতে পারছি না। দেশের সাধারণ জনগণকে অন্ধকারে রেখে ক্রমান্বয়ে উন্নয়নের নামে দেশের নদ-নদী ও পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। নদীকে বাঁচানোর জন্য কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন সাংবিধানিক ও নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকে নদী ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশের নদীর পানির জন্য উজানের দেশের নদীগুলোর ওপর নির্ভর করতে হয়। তারা বাঁধ দিয়ে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে দেশে পানির সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। সেই জন্য উজানের দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে টেকসই ও জনমুখী চুক্তি প্রয়োজন। তিনি বলেন দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ঠিকমতো পানি সরবরাহ করতে হলে টেকসই উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

বেন এর প্রতিষ্ঠাতা এবং বাপার সহসভাপতি ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র তাদের আমরা ট্রানজিট সুবিধা দেব এবং তাদের কাছ থেকে আমরা খরা মৌসুমে পানি নিব—এভাবে স্বচ্চতার সঙ্গে টেকসই চুক্তি করা প্রয়োজন। বাপা সহসভাপতি অধ্যাপক এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, দেশের খাবার পানির কোয়ালিটি ঠিক রাখতে হলে দেশের নদীগুলো দূষণমুক্ত করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী এবং বাপার নির্বাহী সহসভাপতি ডা. মো. আব্দুল মতিন বলেন, নদী কমিশনের অবহেলার কারণে উদ্ধার হওয়া নদীগুলো পুনরায় বেদখল ও দূষিত হয়ে যাচ্ছে। জাতীয় নদী জোটের আহ্বায়ক শারমীন মুরশিদ বলেন, দেশে নদী রক্ষার আইন আছে কিন্তু আইনের শক্ত বাস্তবায়ন নেই। তিনি দোষীদের ওপর কঠিন শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন এবং তাদের বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, কোয়ালিশন ফর দ্য আরবান পুওরের চেয়ারম্যান ড. দিবালোক সিংহ, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্সের সাবেক সভাপতি  অধ্যাপক গোলাম রহমান, বাপার নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মনজুরুল কিবরিয়া, রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্স সেন্টারের সভাপতি মোহাম্মদ এজাজ, সিলেট শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মো. জহুরুল হক শাকিল, বাপার হবিগঞ্জ আঞ্চলিক শাখার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল, বাপা জাতীয় কমিটির সদস্য সঞ্জীব দ্রং প্রমুখ।