সংযোগ ও নির্বিঘ্ন পণ্য পরিবহন পারস্পরিক উন্নয়নের সুযোগ এনে দিতে পারে

দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন করে স্থান করে নিয়েছে কানেকটিভিটি বা সংযোগ। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের এবং নেপাল ও ভুটানের মধ্যে উপ-আঞ্চলিক সংযোগ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে আরো ত্বরান্বিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বিশেষ করে সড়ক, নৌ, রেল ও আকাশপথে সমানভাবে সংযোগ বাড়ানো দরকার। আর পণ্য পরিবহন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যেকার পরিবহন সংযোগ দুই দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুবিধা এনে দিতে পারে। নির্বিঘ্ন পরিবহন সংযোগের সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের জাতীয় আয় বাড়তে পারে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত। আর ভারতের বাড়তে পারে             ৮ শতাংশের মতো। দুই দেশের রপ্তানি বাণিজ্যও বাড়বে। ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়তে পারে ২৯৭ শতাংশ। বাংলাদেশে ভারতের রপ্তানি বাড়তে পারে ১৭২ শতাংশ। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া, নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে মোটরযান চুক্তি (এমভিএ) এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে এ ধরনের অন্যান্য আঞ্চলিক চুক্তির সঙ্গে তুলনার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে পর্যালোচনা করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে মোটরযান চুক্তিকে এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক নীতি পরিকল্পনা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পণ্য পরিবহনে ভারতীয় ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি নেই। এ কারণে উত্তর ভারত কার্যত সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন। আগরতলা থেকে কলকাতায় পণ্য পরিবহনে শিলিগুড়ি হয়ে ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার পাড়ি দিতে হয়। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবহারের অনুমতি থাকলে পথ কমে হতো ৪৫০ কিলোমিটার। এছাড়া ট্রাকের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত থাকলে ভারতের আগরতলা থেকে পণ্যবোঝাই ট্রাক ২০০ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যেতে পারে। এতে ব্যয় কমবে অন্তত ৮০ শতাংশ। বাংলাদেশের প্রায় সব জেলাও আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়নে লাভবান হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আঞ্চলিক বাণিজ্য, ট্রানজিট ও অন্যান্য লজিস্টিক নেটওয়ার্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলের আঞ্চলিক পাওয়ার হাউজ হতে পারে বাংলাদেশ। কারণ, ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশ ভারত, নেপাল, ভুটানসহ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রবেশদ্বারের অবস্থানে রয়েছে।

তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য বাড়ছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এখনও তা অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার কম। এর অন্যতম কারণ সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বলতা। বেনাপোল-পেট্রাপোল দুই দেশের বাণিজ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর। অথচ অবকাঠামো দুর্বলতায় এ বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনে কয়েক দিন সময় লেগে যায়।