বাগেরহাটের মোল্লাহাটে পারিবারিক কলহের জেরে সোমবার (২২ মার্চ) রাতে শিশু কন্যাকে আছাড় দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। নিহত রায়েছা আক্তার (৩) জেলার মোল্লাহাট উপজেলার দৈবকান্দি গ্রামের সরদার মহিউদ্দিন ওরফে হুমায়ুনের মেয়ে। শিশু কন্যা হত্যার ঘটনায় ওই বাবার বিরুদ্ধে মোল্লাহাট থানায় মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার নথির বরাতে সংশ্লিষ্ট থানার পরিদর্শক জগন্নাথ চন্দ্র বলেন, “মহিউদ্দিন পদ্মা সেতু প্রকল্পে মুন্সীগঞ্জে কাজ করে আসছিলেন। দিন দশেক আগে ছুটিতে বাড়ি আসেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় তার স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। ঝগড়ায় হুমায়ুনের পক্ষে তার দুই ভাই ও মা যোগ দেন। একপর্যায়ে হুমায়ুন নিজের মেয়ে রায়েছা আক্তারকে ঘর থেকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ির উঠানের কলপাড়ে দুই পা ধরে আছাড় দেন। রায়েছার কান, নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হয়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।”
ঘটনার পরপরই মহিউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। পরিদর্শক আরও বলেন, নিহত রায়েছার চাচাতো নানা আব্দুল আলী শেখ রায়েছার বাবা, দাদি ও দুই চাচার নাম উল্লেখ করে মোল্লাহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, উদয়পুর দৈবকান্দী গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে হুমায়ুন ওরফে মহিউদ্দিনের রায়েছা ছাড়াও স্নিগ্ধা আক্তার নামে তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে আছে।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে সোমবার রাতে হুমায়ুন সরদার তার আড়াই বছর বয়সী মেয়ে রায়েছা আছাড় দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অবুঝ শিশুহত্যার সাথে জড়িতদের ধরতে চেষ্টা চলছে।
ইত্তেফাক/এমএএম