ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার হুমকি কাদের মির্জার

ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার হুমকি দিলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে বসুরহাট পৌরসভায় তার নিজ কার্যালয়ে বসে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লাইভে আসেন তিনি। সে সময় আবদুল কাদের মির্জা বলেন, এখনো এখানে পুলিশি তাণ্ডব চলছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আমাকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। আমি বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছি, গত সংসদ নির্বাচনে যেভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে রাতের অন্ধকারে তার বাসা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে সিএমএইচ-এ অসুস্থ বলে ভর্তি করা হয়েছিল। আমার বিষয়েও সে ধরনের একটা ষড়যন্ত্র চলছে। দেশবাসী ও জনগণকে জানাতে চাই এ ধরনের ঘটনা ঘটলে আমি সঙ্গে সঙ্গেই আত্মহত্যা করব। আমার ভাই ওবায়দুল কাদের এটা করছেন তার স্ত্রীর প্ররোচনায়। আমি কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করব না। মেরে ফেলবেন, জেলে দেবেন, লাঞ্ছিত করবেন, আর কি বাকি আছে। তিনি আরো বলেন, সত্যবচনের পর অনেকেই আমার কাছ থেকে দূরে সরে গেছেন। সব শিয়ালের এক ডাক। ঢাকা থেকে এখান পর্যন্ত (কোম্পানীগঞ্জ) একই অবস্থা। বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর কৌঁসুলি, ৭২-এ সংবিধান রচনায় ড. কামালের সহযোগী ছিলেন। এ মহান নেতার মৃত্যুতে আমি নাগরিক শোকসভার আয়োজন করেছিলাম। প্রশাসন তা বন্ধ করে দিয়েছে।

সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় আরো তিন জন শ্যোন অ্যারেস্ট

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) সংবাদদাতা জানান, কোম্পানীগঞ্জে সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় আরো তিন জনকে শ্যোন আরেস্ট দেখিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এরা হলেন—বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী চরপার্বতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও বসুরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সিরাজুল হক হাসেম, চরএলাহী ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আবদুল মালেক ও মুছাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী। এ ব্যাপারে পিবিআই তদন্তকারী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ তিন জনকে মুজাক্কির হত্যা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে। বিচারক উপস্থিত না থাকায় শুনানি হয়নি। এর আগে এ হত্যা মামলায় ১২ জনকে গ্রেফতার দেখায় পিবিআই।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান

বাদলের জামিন লাভ

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল গতকাল মঙ্গলবার বিকালে নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে দুপুর ১২টায় নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক নবণীতা গুহ তিন মামলায় বাদলের জামিন মঞ্জুর করেন। 

উল্লেখ্য, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে হামলা-পালটা হামলা, গুলি ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে আসছে। এ সময়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও সিএনজি চালক আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।