ডাকটিকিট একটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। কাজেই এর বিষয় ও ডিজাইন নির্বাচনে কর্তৃপক্ষীয় বিশেষ নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে তেমন সচেতনতা লক্ষ করা যায় না। এ বছর স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে। হয়তো বরাবরের মতো প্রায় একই বিষয় ও ছবি দিয়ে ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে।
এখনো অনেক বিষয় আছে যা ডাকটিকিটে স্থান পায়নি। আমরা কি মুক্তিযুদ্ধের সাড়া জাগানো গান বা চলচ্চিত্রকে বিষয় করে ডাকটিকিট প্রকাশ করতে পারি না? মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর একটি বড় ভূমিকা ছিল, বিদেশি অনেক বন্ধু ছিলেন যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছেন এবং বীরত্বের জন্য তাঁদের জাতীয় পদকও প্রদান করা হয়েছে, গেরিলা যুদ্ধ ইত্যাদির ওপর ডাকটিকিট প্রকাশ করা যেতে পারে। মুক্তিযুদ্ধে ডাকটিকিট একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই বাংলাদেশ নামে ৮টি ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছিল, যা বিশ্ব সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রেখেছে। এ কারণে ২৯ জুলাইকে ডাকটিকিট সংগ্রাহকদের সংগঠন ‘ফিলাটেলিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি)’ ২০০৩ সাল থেকে ডাকটিকিট দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে। এখন ডাকবিভাগসহ অন্যান্য ফিলাটেলিক সংগঠনও উদযাপন করে থাকে। কিন্তু সরকারিভাবে ডাকটিকিট দিবস উদযাপনের কোনো গেজেট প্রকাশিত হয়নি। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী নিজেও একজন ডাকটিকিট সংগ্রাহক। কাজেই বিষয়টি তাঁর দৃষ্টিগোচর করা হলে তিনি অবশ্যই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবেন।
মুজিববর্ষ উদযাপিত হচ্ছে। এ বিষয়ে অবশ্যই একটি গোল্ড ফয়েল ডাকটিকিট কিংবা অন্ততপক্ষে গোলাকার ডাকটিকিট প্রকাশ করা উচিত। বাংলাদেশ থেকে মহাত্মা গান্ধীর ওপর গোলাকার ডাকটিকিট প্রকাশ করা হয়েছে। সার্ক সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বঙ্গবন্ধুর ওপর ডাকটিকিট প্রকাশ করত। ভারত ও ভুটান থেকে বঙ্গবন্ধুর ওপর স্মারক ডাকটিকিট রয়েছে। এ বছরের ডাকটিকিটের কর্মসূচি চূড়ান্ত করে ডিজাইনারদের অবগত করা হলে নকশায় বৈচিত্র্য পাওয়া যেতে পারে। তা না হলে দায়সারা নকশায় ডাকটিকিট প্রকাশ করতে হবে, যার জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো চাহিদা থাকবে না। আমরা এখন শুধু একজন ডিজাইনারের করা ডাকটিকিট পাচ্ছি। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। পরিশেষে, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মুক্তিযুদ্ধের সাড়া জাগানো গান—১. জয় বাংলা বাংলার জয়, ২. শোনো একটি মুজিবরের থেকে, ৩. মোরা একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, ৪. সালাম সালাম হাজার সালাম, ৫. এক সাগর রক্তের বিনিময়ে; মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র—১. ওরা ১১ জন, ২. আবার তোরা মানুষ হ, ৩. অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী, ৪. আলোর মিছিল, ৫. জীবন থেকে নেয়া; মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি বন্ধু; গেরিলা যুদ্ধ বিষয়ে ডাকটিকিট প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি।
এ টি এম আনোয়ারুল কাদির
সাধারণ সম্পাদক, ফিলাটেলিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (পিএবি), ২০৪ মধ্য বাসাবো, ঢাকা ১২১৪