কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর চর এলাকার মাটি রাজস্ব আদায়ে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি বছর উজান থেকে বিপুল পলিমাটি নিয়ে নদীটির কুমিল্লা অংশে চরের উভয় পাশের তীর সমৃদ্ধ করলেও মাটি খেকোদের থাবায় সেটার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা।
স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলেও কোনোভাবেই মাটি কাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় বালু মহাল ইজারার মতো চর এলাকা ইজারা দিয়ে মাটি কাটার বৈধতা দিলে সরকারের এখান থেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা যায়, সদর উপজেলার ঝাঁকুনিপাড়া, টিক্কাচর, শ্যামারচর, শ্রীপুর, মাঝিগাছা, শালধর, চান্দপুর, ছত্রখীল, রত্নাবতী, কাপ্তানবাজার, ভাটপাড়া, পালপাড়া, আড়াইওরা, দুর্গাপুর, আমতলী, বুড়িচংয়ের বাবুবাজার, গোবিন্দপুর, পীরযাত্রাপুর, রামচন্দ্রপুর, মিরপুর, ফরিজপুর, ব্রাহ্মণপাড়ার মনোহরপুর, আসাদনগর, বৃষ্টিপুর, রামনগর, কালিকাপুর, অলুয়া, দেবিদ্বারের চরবাকর, জাফরগঞ্জ, ভিরেলা, ফতেহাবাদ, চানপুর, লক্ষ্মীপুর, বালু বাড়ি, হামলা বাড়ি, ভিংলা বাড়িসহ কমপক্ষে ২০/২২টি স্থানে বেপরোয়া মাটি কাটা চক্র সক্রিয় রয়েছে। পালপাড়া এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, প্রশাসনের নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটি কাটা শুরু হয়।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি বছর গোমতীর বিভিন্ন বালুর মহাল ইজারা দেওয়া হয়। এ বছরও ইজারা হয়েছে অর্ধ কোটিরও বেশি টাকায়। এক্ষেত্রে গোমতীর চর এলাকাগুলো থেকে যে পরিমাণ মাটি বিক্রি করা হয় সেগুলো ইজারার মাধ্যমে হলে কোটি টাকারও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো। তাই মাটি বিক্রির জন্য গোমতীর চর এলাকা চিহ্নিত করে প্রতি বছর ইজারার মাধ্যমে মাটি বিক্রির ব্যবস্থা করা হলে সরকার রাজস্ব বাবদ কোটি টাকা আয় করতে পারবে।
মোহাম্মদ আলাউদ্দিন
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা