আনন্দময় শৈশব ও অভিভাবকের দায়িত্ব

ব্যক্তির শরীর, মন এবং আত্মার সুষম উন্নয়ন ঘটানো শিক্ষার অন্যতম কাজ। মনোজগতের বিকাশ ও সামাজিক জীব হিসেবে সমাজে ব্যক্তির সঠিক অভিযোজন ক্ষমতা সৃষ্টি করে এই শিক্ষাই। আজকের শিশুরাই আগামীর উন্নয়নকাণ্ডারি। যাদের হাত ধরে সূচিত হবে সমাজবদল ও টেকসই উন্নয়ন। প্রশ্ন হচ্ছে, যারা আগামী দিনে দেশের কাণ্ডারি, তাদের শৈশব-শিক্ষার ধরন কেমন? আমরা জানি, শিক্ষার সঙ্গে আনন্দের সম্পর্ক গভীর এবং ওতপ্রোত। আনন্দহীন শিক্ষা শিক্ষার্থীর মনে অধ্যয়ন-ভীতির সঞ্চার করে। এটি সুবিদিত যে, নির্দিষ্ট পাঠনির্ভর মুখস্থবিদ্যা শিশুদের জ্ঞানার্জনের পথে প্রধান অন্তরায়। এছাড়া নিরানন্দ মুখস্থবিদ্যার দৌড় বেশি দূর হওয়ার কথাও নয়। এসব বিষয় পরম্পরায় ফের আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে পরীক্ষার্থীর তকমা লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে অত্যন্ত সচেতনভাবে। জেনে রাখা দরকার যে, শিশু-শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠ আয়ত্ত ও আত্মস্থ করার প্রক্রিয়া যদি তাদের মধ্যে বোধ, চিন্তা ও জ্ঞানার্জনে সুখকর এবং আনন্দময় অনুভূতির সৃষ্টি না করে, তবে তাকে সনদ অর্জনের মাধ্যম বলা গেলেও বিদ্যার্জন বলা যায় না কোনোভাবেই। আজকের শিশু-শিক্ষার্থীরা শৈশবের নির্মল আনন্দ উপভোগ থেকে বঞ্চিত।  শৈশব উপভোগের সুযোগ বঞ্চিত শিশুর কাছ থেকে ভালো কিছুর প্রত্যাশা করা বাতুলতা মাত্র। তাই আসুন শিশু-শিক্ষার্থীদের  শৈশবকে বিকশিত করি আনন্দময় বিদ্যার্জন প্রক্রিয়া রপ্ত করানো ও শৈশব উপভোগের সুযোগ করে দেওয়ার মাধ্যমে।

ওয়ারেছ আলী খান, সদর, নরসিংদী