ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে লালগালিচা সংবর্ধনা

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় এসেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং। বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুলের তোড়া দিয়ে বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। এসময় রাষ্ট্রীয় অতিথিকে স্বাগত জানাতে ২১ বার গান স্যালুট দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।

শেখ হাসিনা ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং অস্থায়ীভাবে বানানো মঞ্চে অবস্থান করে রাষ্ট্রীয় সম্মান উপভোগ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। রাষ্ট্রীয় অতিথি প্যারেড পরিদর্শন করেন। এর পরপরই উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিনিধিদের পরস্পরকে পরিচয় করিয়ে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও তিন বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।

ভুটানের রাজার বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সাভারে জাতীয় স্মৃতি সৌধে যান। সেখানে শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইতে লিখেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উত্সর্গকারী বাংলাদেশের সাহসী সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো আমার জন্যে সম্মানের বিষয়।

এরপর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বর রোডে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এর আগে সেখানে পৌঁছলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। পরে শেরিং দর্শকদের বইয়ে স্বাক্ষর করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দর্শকদের বইতে লিখেছেন, বিদেশি শোষণের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে জনগণকে অভূতপূর্ব শান্তি সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার পথ করে দেওয়ার জন্য ভুটানের জনগণ এবং রাজ সরকারের পক্ষ থেকে আমি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা জ্ঞাপন করছি।

তিনি লিখেন, তার কন্যা শেখ হাসিনা এখন বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলার’ স্বপ্ন পূরণ করছেন এবং প্রতিটি উত্তীর্ণ বছরে বাংলাদেশ আরো সমৃদ্ধ ও এর জনগণ আরো সুখি হয়ে উঠছে। শেরিং আরো লিখেন, একজন সত্যিকারের নেতা হওয়ায় আপনাকে (বঙ্গবন্ধু) ধন্যবাদ। আমার দেশ, তোমার দেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ।

তিন দিনের সফরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করবেন। আজই বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করবেন। বিকালে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ন্যাশনাল প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।