নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থেকে অস্ত্র ও ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) কায়কোবাদ পাঠান এবং তার দুই সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীকে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ আসামিদের নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন হোসেনের আদালতে হাজির করে অস্ত্র ও মাদকের দুইটি মামলায় রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত শুনানি শেষে দুই মামলায় প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে।
আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান আসামিদের এই রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে সোমবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে উপজেলার মেঘনা টোলপ্লাজা এলাকা থেকে ২৫ রাউন্ড গুলিসহ দুইটি বিদেশি পিস্তল ও ২৪০ বোতল ফেনসিডিলসহ এসআই কায়কোবাদ পাঠান ও তার দুই সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র্যাব-৩ ব্যাটালিয়নের একটি দল। পরে র্যাব বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে সোনারগাঁও থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুইটি মামলা করে। সেই মামলায় মঙ্গলবার সকালে এসআই কায়কোবাদসহ তিন আসামিকে আদালতে প্রেরণ করে থানাপুলিশ। র্যাব-৩ ব্যাটালিয়নের সহকারী সুপার ও অপারেশন অফিসার ফারজানা হক জানান, চট্টগ্রাম থেকে মাদক নিয়ে এক ব্যবসায়ী ঢাকার দিকে আসছে এমন সংবাদ পেয়ে র্যাবের একটি টিম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মেঘনা টোলপ্লাজায় অবস্থান নেয়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি সাদা প্রাইভেটকার টোলপ্লাজা অতিক্রম করার সময় থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। প্রাইভেটকারের পেছনের সিটে বসা ছিলেন কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কায়কোবাদ ও তার সহযোগী রবিন হোসেন। প্রাইভেটকারটির চালকের আসনে ছিলেন সোহেল মিয়া। এ সময় প্রাইভেটকারের ভেতরে তল্লাশি করে ২৪০ বোতল ফেনসিডিল ও এসআই কায়কোবাদের কাছ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলিসহ দুইটি বিদেশি পিস্তল জব্দ করা হয়। র্যাবের একটি সূত্র জানায়, আড়াইহাজারের কালাপাহাড়িয়া পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কায়কোবাদ দীর্ঘদিন ধরে কালাপাহাড়িয়া এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লার বাঞ্ছারামপুর, হোমনা ও মেঘনা থানাসহ বিভিন্ন এলাকায় নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।