নারায়ণগঞ্জে মৃত জিসা মনির জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় আদালতে চার্জশিট দিয়েছে সিআইডি। অপহরণের পর ধর্ষণ শেষে লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়ার ৪৯ দিন পর জীবিত ফিরে আসে জিসা মনি। সেই ঘটনায় আব্দুল্লাহ (২২), রকিব (১৯) ও ইকবাল পন্ডিত (৪০)-এর বিরুদ্ধে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি)।
গত ১৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। আদালত তা গ্রহণ করে ২৯ এপ্রিল পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেছে। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে খলিলুর রহমান খলিল মাঝির বিরুদ্ধে তদন্তে কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ঢাকা পুলিশ হেড কোয়ার্টারের নির্দেশে মামলাটি ১১ নভেম্বর তদন্তের দায়িত্ব নেন সিআইডি।
গত ৪ জুলাই কিশোরীকে অপহরণের অভিযোগ এনে মামলার পর রকিব, খলিলুর রহমান (নৌকার মাঝি) ও আব্দুল্লাহ নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। আদালতে মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন খলিল ও আব্দুল্লাহ। তবে গত ২৩ আগস্ট কিশোরীটি জীবিত ফিরে আসে পরিবারের কাছে। বিষয়টি নিয়ে শুরু হয় তুমুল আলোচনা।
জামিনে মুক্তি পেয়ে যুবকরা জানান, তাদেরকে রিমান্ডে পেটানো হয়েছে। নির্যাতন থেকে বাঁচতেই পুলিশের শিখিয়ে দেওয়া কথা আদালতে বলেন। ঘটনাটি ফাঁস হলে তিন জন জামিন পান। গত ২৩ আগস্ট ফিরে এসে কিশোরীটি জানায়, ইকবাল পন্ডিত নামে এক যুবককে বিয়ে করে বন্দর রেললাইন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল তারা। আব্দুল্লাহ ও রকিব জামিনে রয়েছেন তবে ইকবাল পন্ডিত হাজতে। মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (বরখাস্ত) শামীম আল মামুনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা হয়েছে। উচ্চ আদালতে জুডিশিয়াল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।