পটুয়াখালীতে ডায়রিয়ার প্রকোপ

পটুয়াখালীতে গ্রীষ্মকালীন ডায়রিয়ার ব্যাপক প্রকোপ দেখা দিয়েছে। জেলা সদরের পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। এ অবস্থায় সেখানে আসা অধিকাংশ ডায়রিয়া রোগীকে বাধ্য হয়ে হাসপাতালের করিডরে রেখে চিকিত্সা দিতে হচ্ছে। রোগী ও তাদের সঙ্গে আসা লোকজনকে দারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই হাসপাতালে চিকিত্সকসহ জনবল ও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবা প্রদানেও হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, করিডরে ডায়রিয়া রোগীর দীর্ঘ লাইন। লোকজন চলাচলের জন্য জায়গা থাকছে না। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিত্সা নিতে আসা শহরের মুক্তিযোদ্ধা সড়কের শেখ সাদী (১৪) জানায়, সে রবিবার রাতে চিকিত্সার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ওয়ার্ডে জায়গা না পাওয়ায় মানুষের চলাচলের পথের মধ্য থেকেই চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। স্যালাইনসহ কিছু ওষুধ হাসপাতাল থেকে দিয়েছে। আর কিছু ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়েছে।

আমতলী এলাকা থেকে আসা ইকবাল হোসেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত তার সাত বছরের ছেলে ইউনুছ মোল্লাকে নিয়ে রয়েছেন হাসপাতালে চলাচলের পথের মধ্যে। তিনি জানান, হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন ওয়ার্ডে কোনো জায়গা নেই। এভাবে থেকেই চিকিত্সা নিতে হবে। একই অবস্থায় থাকা কালিকাপুর এলাকার রোগী মাজেদা আক্তারের স্বামী আ. খালেক সরদার জানান, অন্য কোনো উপায় না থাকায় এভাবে চিকিত্সা নিতে হচ্ছে। 

হাসপাতাল সূত্র জানায়, এখানে ১০ শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিত্সাধীন রয়েছে ৫৩ জন । চলতি মার্চ মাসের ২২ দিনে রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৬৯ জন।

পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আবদুল মতিন করিডরে থেকে ডায়রিয়া রোগী চিকিত্সা নেওয়ার সত্যতা স্বীকার করে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, কাগজে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল হলেও ডাক্তারসহ জনবল ও অবকাঠামো রয়ে গেছে আগের ২৫০ শয্যার।