স্মারক

জগন্নাথের গুচ্ছ ভাস্কর্য

 

একাত্তরের গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মারক। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে নতুন ভবনের সামনে এর অবস্থান। ভাস্কর রাসার সৃষ্টি। তাঁর সহযোগী ছিলেন ভাস্কর রাজীব সিদ্দিকী, রুমি সিদ্দিকী, ইব্রাহীম খলিলুর রহমান ও মিয়া মালেক রেদোয়ান। এটি দুই অংশে বিভক্ত। এক অংশে চিত্রায়িত হয়েছে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও অত্যাচারের দৃশ্য। অপর অংশে দেশের জনসাধারণের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম খান ২০০৮ সালের ৩১ মার্চ এটি উদ্বোধন করেন।

ভাস্কর্যটির জায়গায় একাত্তরে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে হত্যা করা হয় অনেক মানুষকে। আর হত্যার পর লাশগুলোকে স্তূপ করে গণকবর দেওয়া হয়। সেই নারকীয় ঘটনার স্মারক হিসেবে গণকবরের ঠিক ওপরে ভাস্কর্যটি নির্মিত হয়েছে।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ভাষণে বলেছিলেন, ‘তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে’। ভাস্কর্যটির একাংশে দেখা যায় বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। কামার, কুমোর, জেলে, কৃষিজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ এক হয়ে দা, বঁটি, খুন্তি, বর্শা যার যা কিছু ছিল, তাই নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেয়।

মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে পরের অংশে মুক্তিযোদ্ধারা আধুনিক অস্ত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। যুদ্ধে নামার পর যোদ্ধারা বুঝতে পারলেন যে, পুরোনো এসব জিনিস দিয়ে পাকবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে পেরে ওঠা সম্ভব নয়। তখন সবাই প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করলেন, যেখানে রয়েছেন নারী-পুরুষসহ সব বয়সিরা। ভাস্কর্যের একেবারে ডান দিকে দাঁড়িয়ে আছে প্রশিক্ষণ নেওয়া সাহসী এক কৃষকের ছেলে, যার চোখে যুদ্ধ জয়ের নেশা।

ভাস্কর্যটি রাতের বেলায় রঙিন আলোয় আরো মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।

আহনাফ তাহমিদ