১ লাখ টন আম উত্পাদনের সম্ভাবনা
মতিউর রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
দিনাজপুরের আমগাছগুলো ছেয়ে গেছে মুকুলে। কোনো কোনো গাছে আমের গুটিও ধরেছে। এখন বাগানে বাগানে পরিচর্যায় ব্যস্ত বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ উন্নত পদ্ধতিতে আম চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণের নানান পদক্ষেপ নিচ্ছেন ভালো দাম ও ফলন পাওয়ার জন্য। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে আম চাষ করলে যেমন উত্পাদন বাড়বে, তেমনি সঠিকভাবে সংরক্ষণ এবং পরিবহন, রপ্তানিসহ বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা ব্যাপক লাভবান হবেন এমনটাই বলছেন কৃষি অফিস কর্মকর্তারা। জেলায় এবার ১ লাখ মেট্রিকটনেরও বেশি আম উত্পাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল।
এদিকে দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের উত্পাদন ভালো হবে বলে আশা করছেন বাগানমালিক ও আম ব্যবসায়ীরা। দিনাজপুরের বিরল, সদর, বীরগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, কাহারোল ছাড়াও দিনাজপুরের সব উপজেলায় আম চাষ হচ্ছে। হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, বারি-৪, গৌরমতী, গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে দিনাজপুরে।
ঋণ সুবিধাসহ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ অঞ্চলের আম বিদেশে রপ্তানি করা যেতে পারে বলে জানান মাহমুদপুর ফল সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার নিজেরই ১৭ বিঘা জমিতে আম চাষ করছি। ভালো ফলনের আশাও করছি। সব আম বাগানে এসেছে সম্ভাবনাময় মুকুল। নিরাপদ, মানসম্মত ফল উত্পাদনে পরিচর্যা চালিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘নবাবগঞ্জেই ৪০৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। এখানে প্রচুর পরিমাণে হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, আম্রপালি, বারি-৪ জাতের আমই চাষ হয়। এ উপজেলায় প্রতিবছর প্রায় ৮ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়। এ অঞ্চলের আম মানসম্মতভাবে উত্পাদন করে বিদেশে যেন পাঠানো সম্ভব হয়।’
দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানান, অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবার দিনাজপুর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। দিনাজপুর জেলায় ৫ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে আমের বাগান রয়েছে এবং প্রাকৃতিক কোনো প্রতিকূল অবস্থার সৃষ্টি না হলে এই জেলায় এবার ১ লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি আম উত্পাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।