মাদক মামলার ‘পলাতক’ আসামির এলাকায় শোডাউন

ঢাকার উত্তরা থানায় মাদক মামলার প্রধান আসামি মো. ফজলুল করিম ওরফে মিঠু মিয়া কোর্টের তালিকায় পলাতক থাকলেও তিনি বীরদর্পে গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের তেওয়ারীপুর গ্রামে প্রায়ই এসে শোডাউন করে ঢাকায় চলে যান। এলাকায় তার এই শোডাউনকে ঘিরে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা বেশ কয়েক দিন ঐ এলাকায় অনুসন্ধানে গেলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা আফসোস করে জানান, মোদাচ্ছের মিয়ার ছেলে এলাকায় যে পরিমাণ টাকা খরচ করে তার উত্স নিয়ে চলে নানা জল্পনা-কল্পনা। ঢাকার পরে নিজ এলাকায় তার মাদক ব্যাবসা সম্প্রসারণ করতে স্থানীয় কথিত কিছু নেতা গোছের লোকের সঙ্গে গড়ে তোলে সখ্যতা।

জনশ্রুতি আছে তার এই অবৈধ অর্থের কেলেঙ্কারি ঢাকতে নিজ এলাকায় মসজিদ, মন্দির ছাড়াও কিছু গরীব মানুষকে লোক দেখানো কিছু দানসদকা করে থাকেন। এ ব্যবসাকে পাকাপোক্ত করতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রার্থী, নেতা এমনকি প্রশাসনের কিছু লোককেও তার (মিঠুর) পক্ষের লোক টাকা দেন। শোডাউনের ছবিতে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঐ ওয়ার্ডের আলী হোসেন নামের এক মেম্বার প্রার্থীকেও দেখা গেছে।

২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার উত্তরা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খিলগাঁও সার্কেলের পরিদর্শক কামরুজ্জামান বাদী হয়ে মো. ফজলুল করিম (মিঠু), তার স্ত্রী শারমিন আক্তার এবং মিঠুর মেঝ ভাই এনায়েত করিম লিটুর স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে মো. ফজলুল করিম মিঠুর ঢাকার বাসা থেকে মিঠুর স্ত্রী শারমিন আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৫০টি প্যাকেটে ১০ হাজার পিস ইয়াবা এবং মিঠুর মেঝ ভাই এনায়েত করিম লিটুর স্ত্রী নাসিমা আক্তারের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ৪ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১ হাজার ৩০০ অ্যাম্পুল লুপিজেসিন ইনজেশন, দুইটি মোবাইল সেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ২২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করে। এ সময় মিঠু পালিয়ে গেলেও ঐ দুই নারীকে পুলিশ গ্রেফতার করে।

মামলার এজাহারে ১ নম্বর আসামি মো. ফজলুল করিম (মিঠু)কে পলাতক দেখানো হয় এবং গ্রেফতারকৃত দুই নারীতে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ২০১৬ সালে ৩ ফেব্রুয়ারি মামলা করার পর থেকে আজ পর্যন্ত তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না। অথচ পুলিশের তালিকায় পলাতক থাকা আসামি মিঠু তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৭ নম্বর গৌরীপুর ইউনিয়নের তেওয়ারীপুর এলাকায় প্রায়ই এসে দলবলসহ শোডাউন করে ঢাকায় চলে যায়। ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে ৪২ শীর্ষ মাদক ব্যাবসায়ীর তালিকায় ২ নম্বরে ফজলুল করিমের (মিঠু) নাম রয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র পরিবারের ছেলে হঠাত্ করে এলাকায় নামে-বেনামে প্রায় ৩০/৪০ বিঘা সম্পত্তি ক্রয় এবং সম্প্রতি তিন-চারটি প্রাইভেটকার নিয়ে শোডাউন করায় এলাকায় নানা ধরনের কথাবার্তা হচ্ছে। গত ২২ মার্চ ঢাকা দায়রা জজ বিশেষ আদালত-৪ এ মামলার দিন ধার্য থাকলেও সাক্ষীরা উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এলাকায় সংবাদকর্মীদের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে মিঠু নিজেই ফোন করে এ প্রতিবেদকে জানান, তিনি আল্লাহর পথে চলেন। তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সত্য নয় বলেও দাবি তার। এ বিষয়ে স্থানীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে মিঠুর এলাকায় আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ না পেলে আমাদের কি করণীয়। অন্যদিকে মাদকের ভয়াবহ ছোবলে স্থানীয় যুবক, তরুণ সমাজ আজ ধ্বংসের পথে। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি এর প্রতিকারের দাবি জানান এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুল আলম জানান, এ বিষয়ে থানা পুলিশের জানার কথা। ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, এলাকায় এলে তাকে গ্রেফতার করা হবে।

ইত্তেফাক/এসএ