চোখের পাতা দুটি বন্ধ করলেই আজও স্পষ্ট দেখতে পাই সেই সব হারানো ছবি, অতীত এসে দাঁড়ায় চোখের ভেতরে। তখনই দেখি সেই ১৯৬৫ সালের স্মৃতিময় প্রীতিময় দিনগুলোর দৃশ্যাবলি। পাবনা থেকে এসে ভর্তি হয়েছিলেম জগন্নাথ কলেজে। অচিরেই বন্ধুবান্ধব জুটে গেল অনেকগুলো, কারণ তখন আমি পাজামা-পাঞ্জাবি পরতাম, ইচ্ছে ছিল কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা হব এবং তার আগে থেকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় কবিতা-ছড়া-গল্প ছাপা হওয়ার সুবাদে পরিচিতি পেতে সময় লাগেনি।
একদিন কলেজে ঢুকছি এমন সময় এক দীর্ঘদেহী লোক পথ আটকাল, আটকিয়ে বলল, দুই আনা পয়সা দিতে হবে, আমি বিনা কথায় পয়সা দেবার ঠিক আগমুহূর্তে সেই দীর্ঘদেহী একজনকে ডেকে বলল, এই কাজী আরেফ, এই দিকে রিসিট বইটা নিয়ে এসে এই ছেলেটির নাম এবং কোন বিভাগে পড়ে আর্টসে লিখে ওকে রিসিটটা দিয়ে দে, এমন সময় আরো জনা দুয়েক ছেলেকে দাঁড় করিয়ে যথারিতি দুই আনার বিনিময়ে আমাদের ছাত্রলীগের সদস্য বানানো হলো। কাজী আরেফ দীর্ঘদেহীকে বললেন, রেজা, আজ সারা দিনে ৪০ থেকে ৬০ জন ছাত্রছাত্রীকে ছাত্রলীগের সদস্য বানাতে হবে, এমন সময় আরো একজন পাঞ্জাবি পরিহিত এলন, রেজা ভাই তাকে বললেন, ছাত্র ইউনিয়নের কলেজ শাখার নেতারা আগামী মঙ্গলবার অবকাশ ক্যান্টিনে সম্মেলন করবে, বুঝলেন হাসু ভাই, তার আগের দিন সোমবারেই আমাদের ছাত্রলীগের সম্মেলন করতে হবে অবকাশের ক্যান্টিনে।
তিন জনের কথোপকথনে বুঝতে পারলেম, এরা সকলেই জগন্নাথ কলেজের ছাত্রলীগের নেতা। কিন্তু কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি যিনি ছিলেন, তিনি ও সবচেয়ে বড়ো নেতা আমাদের চেয়ে সকলেই ওপরের ক্লাসের ছাত্র ছিলেন। সোমবার যখন কলেজ ক্যান্টিন অবকাশে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার অনুষ্ঠান শুরু হলো তখন দেখলাম, কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি লম্বা-চওড়া কালো চশমা ও পাঞ্জাবি পরিহিত সেই সভাপতি প্রবেশ করতেই মাইকে ঘোষণা করা হলো—‘কলেজ ছাত্র সংসদের সভাপতি ও ছাত্রলীগের সভাপতি রাজিউদ্দিন আহমদ রাজু ভাই, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, তখনই জানলাম এবং চিনলাম সভাপতিকে। ক্যান্টিনের হলভর্তি ছেলেমেয়েরা দাঁড়িয়ে রাজু ভাইকে স্বাগত জানাল, এর কিছুক্ষণ পরই পরিচয়পর্ব শুরু হলো। সঞ্চালক প্রথমেই বললেন, শামসুল আলম হাসু ছাত্রলীগের কলেজ শাখার একজন উপদেষ্টা। ওনার পিতা বিখ্যাত তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেতা জনাব আবদুর রশীদ তর্কবাগিশ। পরে এলেন বিমানচন্দ্র রায়, সুধীর রায়, এম এ রেজা, কাজী আরেফ। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক মিটিং শেষে অবআশ ক্যান্টিনের চা-শিঙাড়া সেদিন খেয়েছিলাম আমরা ছাত্রলীগের ছেলেমেয়েরা।
কলেজ ছাত্রসংসদের সভাপতি ঐ দিনের মিটিংয়ের পরে আমাদের জানালেন, আগামী পরশু দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলের ক্যান্টিনে ছাত্রলীগের ছোট একটি সভা হবে, তোমরা যদি কেউ যেতে চাও, তবে আসতে পারো। পরশু দিন যথারীতি আমি আমার এশিয়া বাইক সাইকেল চালিয়ে ১৪/২ মালিবাগের বাসা থেকে গিয়ে উপস্থিত হলাম ইকবাল হলের ক্যান্টিনে, গিয়ে দেখি পাবনার ঈশ্বরদীর কালো চুনুসহ আরো কয়েক জন এসেছে আমাদের কলেজ থেকে, পরে এলেন রাজু ভাই, এম এ রেজা হাসু ভাই। বেশ কয়েক জন এসেছিলেন কায়েদে আজম কলেজ থেকে। এমনকি ঢাকা কলেজ থেকে। তখনকার দিনে ঢাকা শহরে লোকসংখ্যা ও যানবাহন কম থাকায় রাস্তায় কোনো জ্যাম না থাকায় আমি প্রায় প্রতিদিনই কলেজ শেষে চুনুসহ যেতাম ইকবাল হলের ক্যান্টিনে। ঐ ক্যান্টিনেই একদিন পরিচয় হলো শেখ শহীদুল ইসলাম ভাইয়ের সঙ্গে। অমায়িক মানুষ। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই আমাকে আপন করে নিলেন। এখনো মনে আছে, তিনি ডান হাতে ঘড়ি পরতেন।
দিনকাল ভালোই চলছিল, এমন সময় ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ শুরু করল আইউব খান। সেই যুদ্ধে পাকিস্তান এয়ারফোর্স সম্ভবত কুর্মিটোলায় বোমাবর্ষণ করলে এক কিশোর মারা যাওয়ার সুবাদে পাকিস্তান সরকার দোষ চাপাল ভারতীয়দের ওপর। সেই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, মাত্র ৮-১০ দিন হয়েছিল। ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি উভয়েই সমঝোতায় এলেন ভারতের সিমলায় গিয়ে। অপরদিকে মাসখানেক আমি আর ইকবালের ক্যান্টিনে যেতে পারিনি। কলেজে চুনুই আমাকে বলল, চল আজকে ইকবাল হলের ক্যান্টিনে যাব, হাসু ভাই আর রেজা ভাই যেতে বলেছেন। আমরা দুজন যথারীতি আমার সাইকেল নিয়ে উপস্থিত হলাম, গিয়ে দেখি হাসু ভাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। এর বেশ কিছুক্ষণ পর এম এ রেজা ভাই এলেন। শেখ সহীদুল ইসলামের সাথে রেজা ভাই থাকতেন সম্ভবত ধানমন্ডিতে।
রেজা ভাইও তাই, ক্যান্টিনে অধিকাংশ সময়ই হতো ছাত্রলীগের স্লোগান—শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি, ছাড়াও পাকিস্তান কীভাবে ভারতের কাছে নতি স্বীকার করল—এসব বিষয় নিয়ে এবং ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি ও তাদের প্রভু সোভিয়েট ইউনিয়নের রাজনীতি নিয়ে।
১৯৬৫ সালের নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে এক বিকেলে আমি সেদিন একাই গিয়েছিলেম হলের ক্যান্টিনে আমার প্রিয় এশিয়া বাইক সাইকেলে। আমি যাওয়ার প্রায় ৪০-৫০ মিনিট পরে শেখ শহীদ ভাই এলেন সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি পরে। আমাকে দেখে খুশি হয়েই চা-শিঙাড়া খাওয়ানোর পরে বললেন, তোমাকে নিয়ে এক জায়গায় যাব। আমি বললাম, চলুন। তিনি ক্যান্টিনের একটি ছেলে বা বেয়ারাকে ডেকে নির্দেশ দিলেন আমার সাইকেলটা যেন দেখে রাখে। ক্যান্টিনের সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল একটি রিকশা। রিকশাওয়ালাকে বললেন, ধানমন্ডি চলো। রিকশাচালক জানালেন, ‘আমি ধানমন্ডি চিনিনে, পরশু দিন ঢাকায় এসেছি, ফরিদপুর থেকে।’ শহীদুল ভাই বললেন, ঠিক আছে, আমি চনিয়ে নেব তোমাকে।
আমরা যথারীতি রিকশায় চেপে নিউমার্কেটের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় শহীদ জানতে চাইলেন আমাদের পারিবারিক খবরাখবর। গল্পে গল্পে যখন আমরা ৩২ নম্বর রোডের কাছে এসেছি, তখন শহীদ ভাই রিকশাওয়ালাকে বললেন, রিকশা বাঁয়ে ঘোরাও।
কিছুটা যাওয়ার পরে রিকশা একটি বাড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে একটি টাকা রিকশাভাড়া দিয়ে সবে আমরা বাড়িটির গেটের দিকে যাব, ঠিক তখনই সেই সাদা বাড়িটির দোতলা থেকে এক ভদ্রলোক বললেন, শহীদ এসেছিস? তোরা ড্রয়িংরুমে বস, আমি আসছি। দেখলাম ভদ্রলোক সেন্ডো গেঞ্জি পরা, হাতে সিগারেট খাওয়ার পাইপ।
তখনকার দিনের ধানমন্ডি নিরিবিলি, লোকজন খুব একটা নেই, ড্রয়িংরুমে বসে থাকার কিছুক্ষণ পরেই সেই সুদর্শন ব্যক্তি এলেন, গায়ে সাদা পাঞ্জাবি এবং লুঙ্গি পরে। সুদর্শন বললেন, শহীদ, তুই একটু এই দিকে আয়, শহীদ ভাই এবং সেই সুদর্শন ড্রয়িংরুমের বাইরে গিয়ে কী বিষয় নিয়ে ৮-১০ মিনিট শলাপরামর্শ শেষে ফিরে এলেন ড্রয়িংরুমে। ড্রয়িংরুমে ফিরে এসেই শহীদ ভাইয়ে কাছে সুদর্শন জানতে চাইলেন, সঙ্গের ছেলেটি কে? শহীদ ভাই আমার নাম বললেন। সুদর্শন লোকটি শহীদ ভাইয়ের কে হন, নাম কী—আমি কিছুই জানি না। সেই ফাঁকে শহীদ ভাই আরো জানালেনম যে ও জগন্নাথ কলেজে পড়ে। তখনই সেই ভদ্রলোক আমাকে কয়েকটি প্রশ্ন করলেন। (১) তোদের কলেজের প্রিন্সিপ্যালের নাম কী? নাম বললাম সাইদুর রহমান। তোদের কলেজে অজিতগুহ কী পড়ান? বললাম, উনি আমাদের বাংলা পড়ান। এবার সুদর্শন জানতে চাইলেন, তোদের কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি কে? বললাম, রাজিউদ্দিন রাজু ভাই। আমার মনে হলো তিনি এতক্ষণ পরীক্ষা নিলেন এবং আমি পরীক্ষায় পাশ করার পরপরই তিনি আমার বাম কাঁদে হাত দিয়ে জানতে চাইলেন, তোর বাড়ি কোথায়? বললাম পাবনায়। পাবনার কাউকে চিনিস কিনা, যিনি আওয়ামী লীগের নেতা? বললাম, ক্যাপটেন মুনসুর আলী। মুনসুর চাচার ছেলে নাসিম তো আমার বন্ধু। তখন সুদর্শন বললেন, ভালো করে লেখাপড়া করবি। লেখাপড়া না করলে ভবিষ্যত্ অন্ধকার। এমন সময় বাড়ির ভেতর থেকে একজন মহিলা কাকে যেন বললেন, মুরগির খাবার আর কবুতরের খাবারগুলো ঠিকমতো দিস। ভদ্রমহিলার কথা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুদর্শন বললেন, এই রেনু, এদিকে এসো। তিনি ড্রয়িংরুমে ঢুকতেই সুদর্শন বললেন, ‘মা টুঙ্গিপাড়া থেকে যে খেজুরের গুড় আর মুড়ি পাঠিয়েছে, এই দুজনকে খেতে দাও। সেই রেনু নামের ভদ্রমহিলা ফিরে গিয়ে আমাদের জন্য পাটালি গুড় আর মুড়ি পাঠালেন। খাওয়াদাওয়া শেষে আমরা যখন ফিরে আসব, ঠিক তক্ষুনি সুদর্শন পুনরায় আমার কাঁধে হাত দিয়ে বললেন, পড়ালেখা ভালো করে করবি, পড়ালেখা না শিখলে ভবিষত্ অন্ধকার।
রাস্তায় নেমে এসে শহীদ ভাইকে জিগ্যেস করলাম— এতক্ষণ যে ভদ্রলোক আমাদের সঙ্গে কথা বললেন, তিনি আপনার কে হোন? শহীদ ভাই জানালেন, উনি আমার মামা, আগে ওনাকে দ্যাখনি? আমি বললাম, ঢাকায় এসেছি মাত্র কয়েক মাস, শহীদ ভাইকে জিগ্যেস করলাম, ওনার নাম কী? তিনি বললেন, শেখ মুজিবুর রহমান। তখন আমি বললাম, দআমি নাম শুনেছি, কিন্তু স্বচক্ষে দেখি নাই। আর উনিই যে শেখ মুজিব, আমি আগে জানলে ওনার দু-পা ধরে সালাম করতাম। শহীদ ভাই জানালেন, ভুল হয়ে গেছে। সোনারঙের দিনগুলো পেরিয়ে চলে এলো ১৯৬৬ সাল। এলো ৬ দফা। আমি ‘মুড়ির টিন’ মার্কা বাসে মালিবাগ থেকে রমনা পার্ক হয়ে কলেজে যাওয়ার পথে জীবনে প্রথম টিয়ার গ্যাস খেয়েছিলেম ঢাকা প্রেস ক্লাবের সামনে। সেই ৬ দফাকে কেন্দ্র করে শেখ মুজিবকে জেলে ঢুকিয়ে দিল আইউব খান। দেখতে দেখতে ১৯৬৭ এলো, পুরো দেশটাতে মোনেম খাঁ-আইউব খাঁর করাল শাসনব্যবস্থা, চারদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরপাকড়। সেই ধরপাকড়ের মধ্যেই একদিন রাজু ভাই আমাদের ছাত্রলীগের সব ছেলেমেয়েকে ক্যান্টিনে ডেকে বললেন, আজকেই আমরা ইডেন গার্লস কলেজে যাব, ইডেন গার্লস কলেজে ছাত্রলীগের সভানেত্রী হয়েছেন শেখ মুজিবের কন্যা শেখ হাসিনা, তাকে সংবর্ধনা দিতে যাব। এলাম দলে দলে, সেই প্রথম আমি শেখ হাসিনাকে দেখলাম।
’৬৭-৬৮ পেরিয়ে এলো ১৯৬৯ সালের অগ্নিঝরা দিন, শেখ মুজিব তখন জেলে বন্দি। আমরা রাজপথে সারা দিন হাজার হাজার কণ্ঠে বলেছি—‘জেলের তালা ভাঙব, শেখ মুজিবকে আনব’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা, তোমার আমার ঠিকানা’ পিন্ডি না ঢাকা, আমরা বলেছি ঢাকা। শেখ মুজিব জেল থেকে বেরোলে কিছুদিন পরেই তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হলো। ১৯৭০ সালে এলো গণভোট। গণভোটে আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও পার্লামেন্ট গঠন করতে দিল না পাকিস্তান সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ মাত্র ১৮ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের প্রথিবীবিখ্যাত এক ঐতিহাসিক ভাষণেই জানিয়ে দিলেন আমাদের স্বাধীনতার কথা। সেই স্বাধীনতার আগে ১৯৭১ সালের জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমি বিখ্যাত সাংবাদিক মার্কিটানিয়ার সঙ্গে পাবনায় দেখা হওয়ার সুবাদে তাকে জানিয়েছিলাম পাবনায় পাকিস্তানিদের অত্যাচার আর মানুষ হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণের কথা। তিনি বিবিসিতে সংবাদটি প্রচার করেছিলেন ১৯৭১ সালের জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তায়। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের পরাধীন দেশ স্বাধীন হলো একটি মাত্র ভাষণে, একটি তর্জনীর নির্দেশে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে এলো ১৯৭৫ সালের কালরাত ১৫ আগস্ট, তার পরে এলো ২১ আগস্ট ২০০৪। ইতিমধ্যে এসে গেছে আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। যার অবদানে আজকের বাংলাদেশ তার স্মৃতি চিরতরে মুছে দিতে চেয়েছিল কতিপয় পাকিস্তানপ্রেমী, তারা দেশকে চেয়েছিল ইসলামি রাষ্ট্র বানাতে। এমনকি ঘৃণিত লোকদের বানানো হয়েছিল মন্ত্রী। সবকিছুই ধুলায় মিশিয়ে দিয়ে এসেছে আজ ৫০ বছরের সেই সুবর্ণকাল। রবীন্দ্রনাথ স্বদেশ সম্পর্কে বলেছেন, (১) দেশকে ভালোবাসিবার প্রথম লক্ষণ ও প্রথম কর্তব্য দেশকে জানা। (২) আমরা দেশকে যে যতই ভালোবাসি না কেন, দেশকে ঠিকমতো কেহ কোনো দিন জানি না। (৩) দেশে জন্মালেই দেশ আপন হয় না। যতক্ষণ দেশকে না জানি... ততক্ষণ সে দেশ আপনার নয়।’ আমি জানি হিরকজয়ন্তী আমি দেখে যেতে পারব না, তাই আমার নিকট সুবর্ণজয়ন্তী হয়ে থাক চিরভাস্বর। যেমন হয়ে আছেন জাতির জনক। যেমন হয়ে আছেন শেখ হাসিনা। জয় হোক বাঙালির।
লেখক : কবি