জাতির জননী

শৈশবেই শুরু হলো খোকা-খুকি খেলা,

কৈশোরের মধ্যভাগে ঘনিষ্ঠ ঘরনি;

যৌবনে জোয়ার এলে ত্রস্ত সারা বেলা;

জয়তী জননী কাঁধে সংসার-তরণী।

 

খোকা শুধু খোকা নয়, বাঙালির নেতা,

ঘর থেকে চর থেকে সব গৃহকোণে;

গণবাঙালির সুখে দুখে সহমর্মী ত্রাতা,

যুবতি জননী শুধু স্বপ্নকাঁথা বোনে।

খড়ের বেড়ার ফাঁকে পূর্ণিমার রাতে

মধুমতী তীরে তীরে হাসে জোছনাধারা,

জননী যুবতি জাগে দিবসে ও প্রাতে,

পতি বন্দি রাজরোষে, অবরুদ্ধ কারা।

 

সব পুত্র সব কন্যা স্বশিক্ষা-দীক্ষিত,

যখন বাউলা বাংলা আপন সংসার;

গৃহধর্মে গণধর্মে তিনি পরীক্ষিত,

স্বাধীনতা শুদ্ধ মন্ত্র, বুকে সদাচার।

সুখে দুখে ভালোবেসে সন্তান-লালন

নিজে মাতা নিজে পিতা স্নেহে-প্রেমে তিনি,

আটচালা সংসারের দায়িত্ব গ্রহণঃ

স্বনিষ্ঠ সংসারী তিনি, জাতির জননী।

 

একাত্তরে জনকের পাশে জাতিমাতা,

নিরবে নিলেন সব অনাথের ভার;

ঝড়েজলে সর্বক্ষণ সন্তানের ত্রাতা,

আঁচলে দিলেন মুছে বেদনা অপার।

তাকে যারা তাক করে হেনেছে আঘাত

অজাচারী তারা নয় এ বঙ্গসন্তান;

এখন ভাগাড়ে তারা খাদ্য হায়েনার,

অনন্তজীবিত শুধু মুগ্ধ মাতৃপ্রাণ।

 

যতদিন বাংলাদেশে হাসে চন্দ্রতারা

ততদিন জাতিমাতা, স্নিগ্ধস্নেহধারা;

যতদিন নদনদী, সবুজ বসতি—

ততদিন সন্তানেরা মাতৃবুকে হারা;

মা, তোমার বুকে বুকে জাতিসন্তানেরা;

মা, তোমার চোখে চোখে পবিত্র প্রহরা;

ফুরোয় না, ফুরোয় না মাতৃদুগ্ধধারা।