সংখ্যালঘুরা ভারতে চলে যাচ্ছেন ---- মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা ভারতে চলে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের লক্ষ্যই হচ্ছে তাদের সম্পত্তি দখল করা, বিভিন্ন রকমের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করা এবং মালামাল লুট করা। আওয়ামী লীগ মুখে বলে যে তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে চায়, সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষা করতে চায়, কিন্তু এখন পর্যন্ত শত্রু সম্পত্তি আইন তারা বাতিল করেনি, তাদের যে ন্যায্য অধিকারগুলো রয়েছে, তা দেয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, বছর দুই আগে ঠাকুরগাঁওয়ে একজন প্রভাবশালী এমপি কয়েক শ একর জমি দখল করেছিলেন। সেটার বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ মিছিল করেছে, মানববন্ধন করেছে, কিন্তু কোনো সুরাহা বা সমাধান পায়নি। ফরিদপুরেও এমন ঘটনা ঘটেছে। এবার দেখেন, শাল্লার ঘটনার যিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি একজন যুবলীগ নেতা। অথচ ওবায়দুল কাদের বলছেন, এখানে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। বিএনপির নামগন্ধও নেই এখানে। অর্থাত্, মানুষকে বিভ্রান্ত করতেই এ কথা বলা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাল্লার ঘটনা সরেজমিন পরিদর্শন করে আসা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের বাড়ি, মন্দিরে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্তরা বলেছেন, ঘটনার দিন মাইকে প্রচার করে স্থানীয় যুবলীগের নেতা স্বাধীন মিয়ার নেতৃত্বে তার অনুসারী শত শত মানুষ ঐ গ্রামে উপস্থিত হয়ে ৬০-৭০টি বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুর চালায় এবং নারী-পুরুষ ও শিশুদের মারধর করে।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ নিতাই রায় চৌধুরীর নেতৃত্বে জেলা সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নুরুল, নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী শাল্লায় গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে একটি প্রতিবেদন দলের কাছে জমা দেন। গুলশানের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।