আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং স্থানীয় শিল্প উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে স্থানীয় শিল্পকে সহায়তা দিতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কোন কোন খাতকে সহায়তা দিলে স্থানীয় উত্পাদন বাড়বে এবং পরনির্ভরশীলতা কমবে—সে বিষয়ে এনবিআর কাজ করছে বলে জানিয়েছেন এনবিআরের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক্বাজেট আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি রাজস্ব আদায় বাড়াতে এনবিআরের নেওয়া কিছু পদক্ষেপও তুলে ধরেন। করযোগ্য আয়ের ব্যক্তিদের করের আওতায় আনতে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এনবিআর সংযুক্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
আলোচনায় অংশ নিয়ে ইআরএফের সভাপতি শারমিন রিনভী রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে করদাতাদের সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া বন্ড লাইসেন্সের অপব্যবহার করে বিদেশে অর্থপাচার হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি অর্থপাচার রোধে এনবিআরের সক্ষমতা আরো বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শুল্কমুক্ত রপ্তানির সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এনবিআরকে প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিশেষত ভবিষ্যতে রপ্তানি বাণিজ্যে টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বা অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিতে (পিটিএ) যেতে হবে। এজন্য সম্ভাব্য শুল্ক ছাড়ের লক্ষ্যে এনবিআরকে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।
এছাড়া বাজেট অধিবেশন বিকেলের পরিবর্তে সকালে শুরু করা, কর আদায়ে সংস্কার কার্যক্রমকে গতিশীল করা, বিনিয়োগ আকর্ষণে করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, পাবলিক-প্রাইভেট কর কমিটি গঠন করা, প্রতি তিন মাস অন্তর রাজস্ব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিষয়ে পর্যালোচনা সভা করা, সরকারের রাজস্ব-সংক্রান্ত কোনো ছাড় যাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়, তারা ঐ সুবিধা পাচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনা করে পরে সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া, রাজস্ব সিদ্ধান্তের প্রভাব বিশ্লেষণের লক্ষ্যে আলাদা বিভাগ গঠন করার প্রস্তাব দেন ইআরএফের সদস্যরা। এছাড়া কালোটাকা বিনিয়োগের বিদ্যমান নীতিমালা বৈধভাবে কর প্রদানকারীদের নিরুত্সাহিত করছে এবং অবৈধ অর্থ আয়কে উত্সাহিত করছে উল্লেখ করে কেবল বৈধভাবে উপার্জিত অপ্রদর্শিত আয়কে নির্ধারিত কর প্রদান ও জরিমানা সাপেক্ষে বৈধ করতে আইনে পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া দিনের অপর সভায় বেভারেজ ম্যানুফেকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোমল পানীয় উত্পাদনে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ অ্যাসোসিয়েশন সমুদ্রে মাছ ধরার উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি জানায়। এছাড়া মোবাইল ফোন অপারেটদের সংগঠন অ্যামটব গ্রাহকের মোবাইল ফোনে কথা বলার ওপর বিদ্যমান শুল্ককর ৩৩ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে কমানোসহ কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরে।
ইত্তেফাক/টিএ