‘যোগ্যতা থাকলে নিশ্চয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা শ্যামল মাওলা নাটক ও ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে এরইমধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন। পাশাপাশি তার ক্যারিয়ারের ঝুলিতে জমা পড়েছে ৩টি চলচ্চিত্র। নিজের নতুন ছবি ও অভিনয় ভাবনা কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে।

সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল

সামনে নতুন কোন কাজগুলো পাচ্ছে দর্শকরা?

বেশকিছু নাটক ও ওয়েব সিরিজে কাজ করছি। কিন্তু সেগুলো ওটিটি প্লাটফর্মের জন্য এবং নির্মাতা ও প্রযোজনা সংস্থার কিছু বিধি-নিষেধ থাকায় এখনই প্রকাশ করতে পারছি না। তবে হইচই প্লাটফর্মে জন্য আশফাক নিপুনের পরিচালনায় ‘মহানগর’ শিরোনামের একটি ওয়েব সিরিজের কাজ করছি। এটি ঈদকে কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।

আজ (গতকাল) আপনার নতুন ছবি মুক্তি পাচ্ছে। এই প্রথম কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করলেন। ছবিটিতে কাজ ও প্রত্যাশা নিয়ে জানতে চাই—

যেহেতু অনেক ভালো একটি গল্পে ছবিটি নির্মিত হয়েছে সেহেতু দর্শকদের কাছে প্রত্যাশা রাখতেই পারি যে, তাদের ভালো লাগবে। আমার প্রত্যাশা হলো, যারা ছবিটি দেখবেন তাদের যদি ভালো লাগে তাহলেই চলবে। আর সব কাজই আমি নিজেকে উজার করে দিয়ে করার চেষ্টা করি। ছবিটির গল্পটিকে নিজের মধ্যে ধারণ করার প্রচেষ্টা ছিল। বাকিটা দর্শকদের হাতে।

তৌকীর আহমেদ, পরিমনী, মম’র মতো শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজের অভিজ্ঞতা বা পরিবেশ কেমন ছিল?

ক্যারিয়ারে কেন্দ্রীয় চরিত্রে প্রথম কাজ তৌকীর ভাইয়ের মতো গুণী নির্মাতার নির্দেশনায় করার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য সৌভাগ্যের। অনেক গুছিয়ে কাজ করেন তিনি। তাছাড়া মম-পরীমনির মতো বড়মাপের শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা ভালো হবে এটাই স্বাভাবিক। টিমের সবাই অনেক সহযোগিতা পরায়ণ ছিল।

চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার গল্প নির্ভর ছবি দিয়ে শুরু করার নেপথ্যে কোনো কারণ আছে কী?

না, বিশেষ কোনো কারণ নেই। আমি আসলে এ ধরনের কাজই করতে চেয়েছি বা চাই। আর ঘরানা দিয়ে আমি ছবিকে ভাগ করতে চাই না। সব ছবিতেই গল্প থাকে। আমার এই ছবিগুলোতে অ্যাকশন নেই। তবে অ্যাকশন নির্ভর ছবিতেও সুযোগ পেলে কাজ করবো।

ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দায় এসে অনেকেই সেভাবে জায়গা তৈরি করতে পারেননি। নাটকে আপনি অনেক জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতা চলচ্চিত্রে রাখতে পারবেন বলে মনে করেন?

যাদের ভেতর যোগ্যতা ছিল তারা জায়গা করতে পেরেছে। যাদের যোগ্যতা নেই তারা ঝরে গেছে। আমি মনে করি, যোগ্যতা থাকলে নিশ্চয় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবো।

নাটক থেকে এসে চলচ্চিত্রে কাজ করা কতটা চ্যালেঞ্জের বলে মনে করেন?

অবশ্যই অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কারণ নাটক তো ছোট একটি মাধ্যম, কিন্তু চলচ্চিত্র অনেক বড় ক্যানভাস। নাটকে পরীক্ষা দেওয়া আর চলচ্চিত্রে পরীক্ষা দেওয়া দুই রকম। বলতে পারেন, একটি ক্লাস পরীক্ষা, অন্যটি ফাইনাল পরীক্ষা!

আপনি নাটক, সিনেমার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজেও অভিনয় করছেন। এই মাধ্যমটি নিয়ে কটুকথা কম হচ্ছে না। আপনাকে ঘিরেও অনেক সমালোচনা হয়েছে। বিষয় কীভাবে দেখেন?

দর্শকদের ভালো লাগবে আশা করেই কিন্তু একটি কাজ করা হয়। পরে যদি ভালো না লাগে তখন বোঝা যায় কাজটি ভালো হয়নি। আমার ওই কাজটি কারো কাছে ভালো লেগেছে, কারো কাছে খারাপ লেগেছে। আর অশ্লীলতার বিষয়ে বলবো, এটি নিয়ে যদি কোনো আলোচনা না হতো, তবে কোনো সমস্যাই হতো না। গল্পের প্রয়োজনে কিছু থাকলে, সেটাকে পজিটিভলি নিলে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না।

সব মাধ্যমেই নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। এটা কী ক্যারিয়ারের প্রয়োজনে?

না, বিষয়টি তেমন না। যে কাজটি করতে আমার ভালো লাগে সেটা করতে পারলেই আমি খুশি। সেটা যে মাধ্যমেই হোক।

যে স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন সেটা কতটুকু সফলতার মুখ দেখেছে বলে মনে করেন?

সত্যি বলতে অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে অভিনয়ে এসেছি। যখন যে কাজটি গুরুত্বপূর্ণ, সেটিই মনোযোগ দিয়ে করছি। কিছুদিন আগে আমার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে। মনে হচ্ছে সঠিক পথেই আছি।