‘এখন সেই মানের প্রযোজক-পরিচালক নেই’

বিনোদন প্রতিবেদক

 

দেশের গুণী অভিনেত্রী ও নির্মাতা অরুণা বিশ্বাস নিয়মিত চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় করছেন। বর্তমানে চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। নিজের কাজ প্রসঙ্গে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘ঠিকানা বত্রিশ ও সরকারি অনুদানের এক আজলা আগুন ছবি দুটি নির্মাণ করছি। পাশাপাশি দুটি নাটক ও অন্তরাত্মা নামের একটি ছবিতে অভিনয় করছি। এছাড়া আগামী ঈদে মুক্তি প্রতীক্ষিত শান ছবির ডাবিং শেষ করলাম। সব মিলিয়ে অভিনয়ের মানুষ অভিনয়েই ব্যস্ত আছি।’ নির্মাণ ও অভিনয় ব্যস্ততার পাশাপাশি চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সম্প্রতি ‘টুঙ্গি পাড়ার মিয়া ভাই’ ছবিটির সেন্সর ছাড়পত্র দিয়ে আবার সেটা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে আবারো ছাড়পত্র দেওয়া হয়। হটাত্ এমন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন কতটা ইতিবাচক দেশের চলচ্চিত্রের জন্য বা এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিব্রতবোধ সৃষ্টি করে কি-না? এমন প্রশ্নে অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘বোর্ডে তো আমি একা থাকি না। চেয়ারম্যান, সচিবসহ অনেকেই থাকেন। এই ছবিটি নিয়ে বলবো, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত ছবি মানেই কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কমার্শিয়াল ছবিতে একটু সমস্যা থাকলেও সেটাকে ছাড় দেওয়া যায়। কিন্তু এ ধরনের ছবিতে সেটা করা যায় না। ছাড়পত্র আমরা দিয়েছিলাম এটা বলা যাবে না। কিছু কারেকশন ছিল। সেগুলো হয়তো ঠিক করেছে তাই এবার ছাড়পত্র মিলেছে।’

দেশের চলচ্চিত্র এখন নানামুখি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অরুণা বিশ্বাস চলচ্চিত্রের সার্বিক বিষয় নিয়ে আরো বলেন, ‘দেশের চলচ্চিত্রের অবস্থা এখন খুবই খারাপ এটা বলার অবকাশ রাখে না। এখন সেই মানের প্রযোজক-পরিচালক নেই বললেই চলে। বর্তমানে দু-একজন ছাড়া বাকিরা সেই অর্থে মেধাবী না। শুধু আতলামি বা নোংরামি করলেই সেটা সিনেমা হয় না। গল্পের গাথুঁনি ঠিকঠাক বুঝতে হবে। কারণ তাদের বুঝতে হবে সিনেমা কিন্তু নাটক না। আরো একটি কারণ হলো যারা একটু অন্যভাবে ব্যবসা চিন্তা করে তারাই ছবি নির্মাণের সুযোগ পায়। কিন্তু যারা আসলেই ভালো ছবি নির্মাণ করতে চায় তারা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’ এছাড়া সারাবিশ্বের সঙ্গে দেশের চলচ্চিত্র করোনায় অনেকটা পিছিয়ে গেছে। তবে চলচ্চিত্রের এই দুর্দিন শিগগিরই দূর হবে বলে মনে করছেন তিনি।