ফিরে এলো জমজমাট বইমেলার স্মৃতি

সকাল থেকে ফাঁকাই ছিল, রোদের তাপ কমতেই জমে উঠতে শুরু করে বইমেলা। সন্ধ্যার আগে এই বিশাল বইমেলাও ছোট মনে হচ্ছিল। সেই চিরচেনা জনস্রোত, সেই মানুষের ভিড়, স্টলে স্টলে কেনাবেচা—ফিরিয়ে আনল চিরাচরিত বইমেলার স্মৃতি। ফিরিয়ে আনল করোনার আগে হারিয়ে যাওয়া বইমেলাকেও। করোনা মহামারির পরে বইমেলা শুরু থেকেই ঠিক মতো জমছিল না। কিন্তু গতকাল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ছুটির দিনে সেই মেলা রীতিমত জমে উঠল। প্রকাশকদের মুখেও হাসি।

কাকলী প্রকাশনীর বর্ষীয়ান প্রকাশক এ কে নাছির আহমেদ সেলিম বললেন, ‘করোনার ভয় কাটিয়ে মানুষ মেলায় আসছে’। প্রতীক প্রকাশনীর প্রকাশক নূর-ই-মোনতাকিম আলমগীর জানান, ‘দিনের বেলা তেমন ভিড় না হলেও বিকাল থেকে লোকসমাগম বেড়েছে। অন্যদিনের তুলনায় বিক্রিও বেড়েছে।’

মূলমঞ্চে আলোচনাসভা : গতকাল বইমেলার মূলমঞ্চে ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী :স্বাধীন বাংলাদেশের ৫০ বছরের অভিযাত্রা’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেন শাহরিয়ার কবির এবং মোহাম্মদ হান্নান। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান।

বিজিবির ব্যান্ড দল : বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান দিয়ে বইমেলার প্রবেশ পথে বিজিবির ব্যান্ড পার্টি দেশাত্মবোধক গান বাজিয়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। দলের ৩৩ জন সদস্য দেশাত্মবোধক নানা গানের সুর পরিবেশন করেন। এদিকে বইমেলায় তাম্রলিপির প্যাভিলিয়নে আয়মান সাদিক, মুনজেরিন শহীদ,  লাক্স সুন্দরী শানারেই দেবী শানুকে ঘিরে ছিল পাঠকের ভিড়। তাদের বই কিনে স্বাক্ষর নেওয়া, সেলফি তোলার জন্য সারাক্ষণই ভিড় লেগেছিল ভক্তদের।

লিটল ম্যাগ চত্বর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে : তরুণ লেখক কবিদের দাবির মুখে লিটল ম্যাগ চত্বর সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে উন্মুক্ত মঞ্চের পাশে সরিয়ে আনার পর জমে উঠেছে তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডাও। অপরদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন চঞ্চল আশরাফ, হামিম কামাল, চৌধুরী শহীদ কাদের। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন রূপা চক্রবর্তী, রফিকুল ইসলাম। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী মৌটুসী, পার্থ, সন্দীপন দাস এবং তানভীর আলম সজীব।