ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিলেজ পলিটিক্স এখন তুঙ্গে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীরা দল গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন। চলছে গ্রাম্য মাতুব্বরদের দল ভাঙ্গাগড়া। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীরা মাতুব্বরদের নিজের দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলায় ৬৭টি ইউনিয়ন। আর এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে এখন মরিয়া হয়ে উঠেছেন চেয়ারম্যান পদের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। তারা মনে করছেন, সরকার দলে মনোনয়ন পেলে বিজয় সুনিশ্চিত। নেতাদের কাছে তদবির করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিটি ইউনিয়নে পাঁচ-ছয় জন করে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। কোনো কোনো স্থানে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সমর্থকদের মধ্যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। শৈলকুপা উপজেলার সারুটিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ এখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মামুনের সমর্থক ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী জুলফিকার কায়সার টিপু সমর্থকদের মধ্যে বেশ কয়েকটি সহিংসতার ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু এবং আহতও হয়েছেন প্রায় ১০০ জন। বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে। বগুড়া ও আবাইপুর ইউনিয়নেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
আবাইপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোক্তার হোসেন মৃধা বলেন, তার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে তিনিসহ পাঁচ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী। অবস্থা এমন সবাই চেয়ারম্যান হতে চায়। মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, ঝিনাইদহ জেলায় এখনো ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা হয়নি। চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা লবিং শুরু করেছে। নেতাদের কাছে তদবির করছে। প্রতি ইউনিয়নে এবার অধিকসংখ্যক চেয়ারম্যান প্রার্থী দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী বলে জানান তিনি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, জেলায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে। মনোনয়নের জন্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রতি ইউনিয়ন থেকে তিন জনের নাম সুপারিশ করা হবে চূড়ান্ত মনোনয়নের জন্য।
এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ জানান, বিএনপি এ সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না। তাই তারা ইউপি নির্বাচন নিয়ে ভাবছেন না। অন্যদিকে মেম্বার পদে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে না। প্রতি ওয়ার্ডে চার-পাঁচ জন করে প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা ওয়ার্ডে দল গোছাতে ব্যস্ত। গ্রামাঞ্চলে মানুষের মধ্যে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে চেয়ারম্যান-মেম্বার হতে পারলে ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটে। তাই প্রার্থীর সংখ্যাও বেশি হবে।