ঝালকাঠি প্রতিনিধি
ঝালকাঠির গাবখান ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গাবখান ব্রিজের নিচে তার বাড়ির কাছে এ ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ইউপি চেয়ারম্যানকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের ছেলে মিনহাজুল ইসলাম তপু জানান, আমার বাবা ১০ বছর এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা করা হয়। প্রতিপক্ষের লোকজন আমার বাবাকে গণসংযোগ করার সময় কুপিয়েছে। তার মাথা, পিঠ ও পায়ে পাঁচটি কোপ দিয়েছে। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা আমরা আরো তিন জন আহত হয়েছি। বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিত্সক মো. রাব্বি জানান, গুরুতর জখম এ রোগীকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।
ঝালকাঠি থানার ওসি খলিলুর রহমান জানান, আমি এখন পর্যন্ত চেয়ারম্যানের ওপর হামলার বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে ঘটনাস্থলে ওসি তদন্তকে পাঠিয়েছি। চেয়ারম্যান সুস্থ হয়ে অভিযোগ দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউপি নির্বাচন ঘিরে মঠবাড়িয়ায় সহিংসতায় আহত ১০
মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা জানান, মঠবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে বেতমোড় ইউনিয়নসংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর (টেলিফোন প্রতীক) কর্মী-সমর্থকদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে গুরুতর আহত সাত জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতমোর ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদুল ইসলামের সমর্থকেরা প্রচারণার জন্য বেতমোড় ইউনিয়নসংলগ্ন সড়কে এলে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন আকনের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, উভয় পক্ষ মোবাইল ফোনে পরস্পরবিরোধী অভিযোগ করেছে। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরূপকাঠিতে সংঘর্ষে আহত ১০
পিরোজপুর অফিস ও স্বরূপকাঠি সংবাদদাতা জানান, স্বরূপকাঠিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ ও পাঁচ/সাতটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যার পর উপজেলার সারেংকাঠি ইউনিয়নের গোবিন্দগুহকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে শাকিল, জাহারুল, রেজাউল, শাওন, রাসেল ও স্বপন শেখকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সারেংকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সায়েম অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় তার কর্মী-সমর্থকরা নির্বাচনি প্রচারে করফার হাট থেকে মোটরসাইকেলযোগে শেখপাড়া যাওয়ার পথে নৌকা মার্কার প্রার্থী মো. নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে তার কর্মী-সমর্থকরা বহরের ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা মার্কার প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমার কর্মীরা নয় বরং বর্তমান চেয়ারম্যান মো. সায়েমের সমর্থকরা আমার কর্মীদের ওপর হামলা করেছে এবং নৌকা মার্কার পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে। নেছারাবাদ থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন, দুই পক্ষের দুটি অভিযোগ পেয়েছি। অনুসন্ধানসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একটি পোড়া মোটরসাইকেল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে বলে জানান তিনি।