আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর যে উভয় দেশের জন্যই অতীব তাত্পর্যপূর্ণ তা স্বয়ং নরেন্দ্র মোদি এবং আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বলেছেন। একদিকে মোদি বলেছেন তিনি বাংলাদেশে আসতে পেরে আনন্দিত, অন্যদিকে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মোদি আসবেন এটাই অত্যন্ত গুরুত্বের ব্যাপার। প্রাক্তন এক পররাষ্ট্র সচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা শমসের মোবিন চৌধুরী, বীর বিক্রম, এক দৈনিক পত্রিকাকে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কটা শুধু আনুষ্ঠানিকই নয়, এটি ঐতিহাসিক, তাই মোদির আগমন অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের নেতা হারুন হাবিব, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী সিকদার এবং মন্ত্রিসভার বেশ কয়জন সদস্য মোদির আগমনের তাত্পর্য ব্যাখ্যা করেছেন। তবে বিপরীত মতের মানুষেরও অভাব নেই। এই মতের মানুষ কারা তা আমাদের অজানা নয়। এরা ’৭১-এর পরাজিত অপশক্তি, যারা পাকিস্তান ভেঙে স্বাধীন বাংলার অভ্যুত্থানকে আজও মেনে নিতে পারছে না, আর ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অপরিহার্য শক্তি ছিল বলে ভারতের বিরুদ্ধে তাদের গাত্রদাহ। এরা ’৭১ থেকে ’৭৫ পর্যন্ত কচ্ছপের মতো মুখ লুকিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর পাকিস্তানপ্রেমী জিয়াকে ত্রাণকর্তা হিসেবে পেয়ে তার ছত্রছায়ায় পুনরায় একত্রিত হয়ে সাম্প্রদায়িকতা এবং ভারত বিরোধিতায় মেতে ওঠে। উদ্দেশ্য একটাই- বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানে পরিণত করা।
সভ্যতা যত পুরোনো, বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক এবং বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসও ততই পুরোনো। সুদূর অতীতে গ্রিক এবং রোমান নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিরাজ করত, যাতে তারা বিভিন্ন বিষয়ে আদান-প্রদানের সুযোগ পেতো। ভারতবর্ষের আদি ইতিহাস বলছে খ্রিষ্ট জন্মের পূর্বে সম্রাট অশোক তার নিকটজনদের দূত হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাঠাতেন বুদ্ধের বাণী প্রচারের জন্য। তার ফলে পুরো এলাকার সঙ্গে মৌর্য আমলেই ভারতবর্ষের শুধু গভীর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়নি, সেসব দেশে ছড়িয়ে পড়ে সংস্কৃত এবং পালি ভাষা। বঙ্গ সন্তান অতীশ দীপঙ্করও রাজদূত হিসেবেই তিব্বত এবং ভুটান গিয়েছিলেন বলে ভুটান সফরের সময় জেনেছি। ইংল্যান্ডে টিউডর রাজ বংশের রাজত্বকালে ভারতের মোগল দরবারে দূত পাঠাতেন ব্রিটিশ শাসকরা। জানা যায়, মেগাস্থনিস, হিউ এন সাং, ইবনে বতুতা প্রমুখও ভারতবর্ষে এসেছিলেন স্ব-স্ব দেশের রাজদূত হিসেবেই।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর বিশেষজ্ঞদের মত হলো, আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কখনো এক গতিতে চলতে পারে না। তারা বলে থাকেন এ ধরনের সম্পর্ক উঠানামা করাই স্বাভাবিক, কেননা উঠানামার পারদ নির্ভর করে স্ব-স্ব রাষ্ট্রের স্বার্থের ভিত্তিতে। অর্থাত্ আজ যে দেশ শত্রু, কাল সে মিত্র হতে পারে। এই তত্ত্বও অস্বীকার করার অবকাশ নেই। কেন না, এটি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে বিশ্বের এক পথপ্রদর্শক ছিলেন ভারতবর্ষের চানক্য পণ্ডিত, যিনি কৌটিল্য নামেও খ্যাত। তিনিই সম্ভবত এই সূত্রের আদি উদ্ভাবক। কিন্তু ইতিহাস একই সঙ্গে সাক্ষী দিচ্ছে যে কিছু কিছু রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক চিরঅম্লান হয়ে থাকে, যেখানে ওঠানামার পারদতত্ত্ব অচল। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে তুলে ধরা যায়। তবে চিরস্থায়ী মধুর সম্পর্কে সবচেয়ে বড় উদাহরণ নিশ্চিতভাবে বাংলা-ভারত সম্পর্ক। এর কারণ এটি রক্তে লিখা সম্পর্ক। মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় শহিদ সৈন্যদের মিলিত রক্ত প্রবাহের ওপর ভিত্তি করেই এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলে এটি নজিরবিহীন। ভারত সেদিন তার নিজের নিরাপত্তা, অর্থনীতিসহ বহুবিধ স্বার্থ বিপন্ন করে বাংলাদেশের এক কোটির অধিক বাস্তুহারাকে আশ্রয়, খাবার, চিকিত্সা প্রদান করে, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, আবাস, চিকিত্সা, খাদ্য প্রদান করে এবং সবশেষে প্রত্যক্ষ যুদ্ধে জড়িত হয়ে যে অভূতপূর্ব উদাহরণ সৃষ্টি করেছিলেন, তারও কোনো নমুনা পাওয়া যাবে না। অনেকে বলে থাকেন পাকিস্তান ভেঙে দেওয়ায় ভারতের স্বার্থ ছিল। তারাও প্রধানত সেই পাকিস্তানপ্রেমীদের গোত্রভুক্ত। তারা উপলব্ধি করতে পারেন না, তা নয় যে ভারত ’৭১ যে ঝুঁকি নিয়েছিল, তার পেছনে মৌলিক কারণ ছিল মানবতা এবং আবেগ। বাহ্যিকভাবে ভারতকে চীন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মতো মহাশক্তিকে মোকাবিলা করতে হয়েছে। চীন তার সীমান্তে ভারতকে পর্যুদস্ত করার মতো যথেষ্ট সৈন্য মোতায়েন করেছিল, তবে শুধু সোভিয়েত ইউনিয়নের ভয়ে তারা আগে বাড়েনি। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হেনরি কিসিঞ্জারও ইন্দিরা গান্ধীকে এই কথা বলে হুঁশিয়ারি করেছিলেন যে ভারত যেন ১৯৬২ সালের চীনের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের কথা ভুলে না যায়। তাছাড়া পূর্ব ইউরোপীয় সমাজতান্ত্রিক দেশগুলো ছাড়া এক বিরাটসংখ্যক রাষ্ট্র ভারতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশগুলো ভারতে অর্থ প্রদান বন্ধ করে দিয়েছিল, ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য তলানিতে পড়ে গিয়েছিল। অভ্যন্তরীণভাবে ভারতের সে সময়ের দুর্বল অর্থনীতিতে যে চাপে পড়েছিল তা থেকে উত্তরণের পথ ছিল দুরূহ। এত লোককে আবাস, খাবার, ওষুধ প্রদানে ভারতকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র দেওয়ায় বহু অবাঞ্ছিত লোকের, বিশেষ করে নকশালদের হাতে এবং পাকিস্তানি চরদের হাতেও প্রচুর অস্ত্র চলে গিয়েছিল। পাকিস্তানও সেই সুযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখোশ পরিয়ে বহু চর পাঠিয়ে ভারতের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করেছিল। ভারতের কৃষি এবং শিল্প উত্পাদন স্থবির হয়ে পড়েছিল, উদ্বাস্তু শিবির থেকে কলেরা, টাইফয়েড মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল। এ অবস্থায় ভারত নিজের স্বার্থে আমাদের সাহায্য করেছে বলে যারা বলেন তাদের অধিকাংশই আসলে জ্ঞানপাপী। অনেকে এমন উদ্ভট কথাও বলেছেন যে ভারত পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র নিয়ে গেছে। অথচ ভারত ব্যবহার করত সোভিয়েত অস্ত্র বিধায় পাকিস্তানিদের ফেলে যাওয়া চীনা অস্ত্র ছিল তাদের কাছে ভাঙা লৌহালক্কর সম। পৃথিবীর সব অঞ্চলেই দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সম্পর্ক অতীব প্রয়োজন। সেই অর্থেও ভারতের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্কের বিকল্প থাকতে পারে না। এই সম্পর্ক যে কত অপরিহার্য তার প্রমাণ মিলেছে বঙ্গবন্ধু হত্যার পর খুনিদের দ্বারা সৃষ্ট অসাংবিধানিক, বেআইনি ক্ষমতা দখলদারদের ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি এবং বজায় রাখায় দুই দেশেরই যে ক্ষতি হয়েছিল তার থেকে। এ কারণে উভয় দেশই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ভারতের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে গঙ্গার পানিবণ্টন, ছিটমহলগুলোর মুক্তি, পার্বত্য সমস্যাসহ যেসব বিষয়সমূহ সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের দ্বারা সমাধান সম্ভব ছিল তা হয়নি। বঙ্গোপসাগরে আমাদের সীমানা নির্ধারণও হয়নি, যার প্রকান্তরে উন্নয়নের অর্থে দেশ বহু পিছিয়ে গিয়েছিল। অথচ এসব সমস্যার সমাধান ৭০-এর দশকেই হতে পারত এবং দেশ আজ অনেক বেশি উন্নত হতো।
আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তার কথা যে আমরা কখনো ভুলতে পারি না সে কথা স্বয়ং বঙ্গবন্ধু বহুবার বলেছেন। ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতার নিদর্শনস্বরূপ তিনি পাকিস্তানি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে লন্ডন থেকে বাংলাদেশে যাত্রার পথে দিল্লিতে যাত্রা বিরতি ঘটিয়ে দিল্লিতে মিলিত জনসমুদ্রকে উদ্দেশ্য করে সেই কৃতজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন, ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব হবে চিরস্থায়ী। ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণের পরেও বঙ্গবন্ধু ভারত এবং সেসব দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেছিলেন যারা মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য ও সমর্থন করেছিলেন।
ভারতই একমাত্র দেশ যার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মৈত্রী চুক্তি করেছিলেন, সে সময় স্বাধীনতা বিরোধীরা একে গোলামির চুক্তি বলত। অথচ এই চুক্তির কারণেই আজ ছিটমহল, পার্বত্য সমস্যা, গঙ্গার পানি বিতরণ সমস্যার সমাধান হয়েছে। পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিতে ইন্দিরা গান্ধীর যে অবদান ছিল, তা অন্য কারোর ছিল না। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ভুলে যাবার নয়।
ভারতের সঙ্গে আমাদের অতি বিশেষ এবং রক্তে লেখা সম্পর্ককে প্রধানমন্ত্রী মোদির আগমন আরো অধিক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেই অভিজ্ঞ মহলের ধারণা। এটি একদিকে যেমন আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অন্যদিকে তেমনি একটি স্বার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ারও সুবর্ণজয়ন্তী। সেদিন ভুটান এবং ভারতের স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে আমরা আন্তর্জাতিক আইনে একটি স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা পেয়েছিলাম বলে একদিকে যেমন পাকিস্তান বঙ্গবন্ধুর প্রহসনের বিচার করে তাকে ফাঁসি দিতে পারেনি, অন্যদিকে তেমনি নিরাপত্তা পরিষদে সোভিয়েত ভেটোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা হয়েছিল। একই কারণে মার্কিন সপ্তম নৌবহরও বাংলাদেশ আক্রমণ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী মোদি বঙ্গবন্ধুকে একজন ঋষিতুল্য লোক বলে আখ্যায়িত করেছেন। দুদিন আগে এক টুইট বার্তায় তাকে এমন এক আদর্শবান ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন যার আদর্শ বিশ্বকে আলোকিত করছে এবং করবে। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধুকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে বঙ্গবন্ধুর প্রাপ্য সম্মান তাকে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি তার সঙ্গে আরো অতিরিক্ত ১২ লাখ করোনা ভ্যাকসিনের ডোজ নিয়ে এসে এ মুহূর্তের সবচেয়ে বড় বিপদের বন্ধুর পরিচয় দিলেন। পূর্বে সেই টিকার প্রথম প্রাপক হিসেবে বাংলাদেশ কয়েক লাখ লোককে এরই মধ্যে টিকা দিতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে এখনো পৃথিবীর অনেক দেশ সে টিকা পায়নি।
সেদিন তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের অপরিহার্যতা প্রসঙ্গে যা বলেছিলেন, নিশ্চয়ই দেশপ্রেমিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনতা তার সঙ্গে একমত। এদেশের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক মনে করে ভারতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিকল্প নেই। পাকিস্তানপ্রেমী ধর্মব্যবসায়ীরা পাঁচ জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অবস্থানকালে সুনামগঞ্জে হিন্দুদের মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে একটি বর্বর রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপিত করার চেষ্টা করে। এর চেয়ে বড় দেশদ্রোহিতা কিছু হতে পারে না। বাংলার পবিত্র মাটি থেকে এদের উচ্ছেদ করাও অপরিহার্য। এরা ধর্মের নাম ব্যবহার করে মোদি বিরোধিতা করছে, অথচ চীন যে লাখ লাখ উইঘুর মুসলমানদের ওপর গণহত্যা, ধর্ষণ চালাচ্ছে, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না, কেননা চীন তাদের প্রিয় পাকিস্তানের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। অনেক পাকিস্তানপ্রেমী বলেন, চীনকে ভেতরে এনে ভারতকে রোখার কথা। এরা ভালো করেই জানে বর্তমান বিশ্বের নিকৃষ্টতম আগ্রাসি দেশ চীন পাকিস্তানের গোয়াদার বন্দরের এক দ্বীপ ৪৫ বছরের জন্য দখল করে নিয়েছে ঋণ জালে আটকিয়ে, শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটা দ্বীপও একইভাবে ৯৯ বছরের জন্য দখল করেছে, আফ্রিকার জিবুতির এলাকা বিশেষ দখল করেছে, মালদ্বীপে একই প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছিল। তাছাড়া বাংলাদেশে এক সচিবকে ঘুষ দিয়ে ধরা পড়ে প্রমাণ করল চীন বাংলাদেশে ঘুষ ছড়াচ্ছে। পুরো দক্ষিণ চীন সাগর দখলের পাঁয়তারা করছে। সেই চীনকে আনা যে খাল কেটে কুমির আনা তাই বোধহয় এই পাকিস্তানিপ্রেমীদের ইচ্ছা। তাই এসব পাকিস্তানিপ্রেমীকে বলতে হয় সাধু সাবধান, বলতে হয় ভারতের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ককে বিতর্কিত করার চেষ্টা করলে আপনারাই দেশান্তরিত হয়ে যাবেন।
n লেখক : আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি