সাটুরিয়ায় সংরক্ষণাগার না থাকায় নষ্ট হচ্ছে সবজি

এম নজরুল ইসলাম, সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

সাটুরিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সারা বছরই কোনো না কোনো সবজি উত্পাদন হয়। এখানকার বিষমুক্ত নিরাপদ সবজির চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে শীতকালে নানা রকম সবজি উত্পাদন ও তা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। তবে ভরা মৌসুমে সবজির উত্পাদন বৃদ্ধি হলেও চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি থাকায় দাম খুব কমে যায়। ফলে প্রচুর পরিমাণ সবজি অবিক্রীত থেকে নষ্ট হয়ে চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। এতে মোটা অঙ্কের লোকসানও গুনতে হয়। সাটুরিয়ায় এ চিত্র দীর্ঘদিন চলে আসছে। তাই এখানে সরকারিভাবে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি এলাকার চাষিদের। উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়। এ সব জমিতে প্রায় ৩০ লাখ টন সবজি উত্পাদন করেন চাষিরা। প্রায় ২০ হাজার কৃষিশ্রমিক কাজ করেন বলে জানা গেছে।

উপজেলার তিল্লী গ্রামের সবজি চাষি মহর আলী জানান, তিনি এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে লালশাক, ফুলকপি, মিষ্টি কুমড়া, বেগুন ও কুমড়া চাষ করেছেন। এলাকায় কোনো সবজি সংরক্ষণাগার না থাকায় তার উত্পাদিত সবজি লোকসান দিয়ে কম দামেই স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার অনেক সময় বিক্রি না হলে তা পচে নষ্ট হয়ে যায়। এতে তার উত্পাদন খরচও হয় না। গোপালপুর গ্রামের সবজি চাষি আব্দুল ছালাম বলেন, ‘অতিরিক্ত সবজি পচনরোধে সরকারিভাবে সংরক্ষণাগার নির্মাণ করতে আমরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে দীঘদিন ধরেই দাবি করে আসছি।’ কৃষিবিদ মোতালেব হোসেন জানান, জাত ও প্রকারভেদে সংরক্ষণাগারে ৩০-৪০দিন পর্যন্ত সবজির গুণগত মান ও রং অপরিবর্তিত বা সতেজ থাকে। গাজর এবং কাচা টম্যাটো ভালো থাকে ৬০-৭০ দিন পর্যন্ত। আম সংরক্ষণ করা যায় ২০-২৫ দিন পর্যন্ত। সংরক্ষণের জন্য কোনো রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। এতে ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, সবজি অপচয় ও চাষিদের লোকসান ঠেকাতে সাটুরিয়ায় সরকারিভাবে সবজি সংরক্ষণাগার নির্মাণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হবে।