জামিন নিয়ে ফিরেই হামলা, যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে পলাতক অবস্থায় জামিন নিয়ে ফিরেই প্রতিপক্ষের ওপর পুনরায় হামলা করে ফেঁসে গেছেন দক্ষিণ বগুড়ার ত্রাস শীর্ষ সন্ত্রাসী যুবলীগ নেতা নাদিম প্রামাণিক। শুক্রবার রাতে নাদিমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বগুড়া শহরের ফুলতলা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ফোরকান হত্যা মামলাসহ ৯টি মামলার আসামি এই নাদিম। তিনি ফুলতলা বাজার এলাকার আরেক ‘সন্ত্রাসী’ মজনু প্রামাণিকের ভাগিনা এবং বগুড়া শহর যুবলীগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক। একই সঙ্গে নাদিম ফুলতলা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি।

শাজাহানপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শুক্রবার রাতে পলাতক থাকা অবস্থায় ফুলতলা এলাকার নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন নাদিম। তার গ্রুপের অন্য দুই সদস্য আবু হানিফ আকন্দ ও মিন্টু মিয়াকে গ্রেফতার করা হয় আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ বগুড়ার ফুলতলা এলাকার এক সময়ের শীর্ষ দুই সন্ত্রাসী ছিলেন যুবলীগ নেতা মজনু প্রামাণিক            ও আমিনুল ইসলাম শাহীন। এই দুই সন্ত্রাসীর দুই গ্রুপের উত্তরসূরি মজনু প্রামাণিকের ভাগিনা যুবলীগ নেতা নাদিম প্রামাণিক ও শাহিনের ছেলে তৌহিদুর রহমান লিখন। নাদিম ও লিখন গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি লিখন গ্রুপের সদস্য ফোরকান নামে এক সন্ত্রাসীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। ঐ মামলায় নাদিম প্রামাণিককে প্রধান করে ১৩ জনকে আসামি করা হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই নাদিম ছিলেন পলাতক। এদিকে এই হত্যা মামলার আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছে বলে দাবি করে দলবলসহ এলাকায় ফিরে আসেন নাদিম।

স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাতে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার জাহাঙ্গীরাবাদ ফুলতলা এলাকায় রমজান নামের এক যুবককে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহত রমজান ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম শুকুর আলী। বর্তমানে তিনি বগুড়া সরকারি মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এই ঘটনায় নাদিমের প্রতিপক্ষের দুজন আহত হয়েছেন। এই হামলার নেতৃত্ব দেন নাদিম। হামলার ঘটনায় লিখন গ্রুপের পক্ষে ফয়সাল কবির নামে একজন বাদী হয়ে যুবলীগ নেতা নাদিমকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে শাজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপরই রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।