বিক্ষিপ্ত সহিংসতার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে গতকাল শনিবার। বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পালটা তৃণমূলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সহিংসতা ছড়ানো এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিজেপি। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ। যা কিছুটা বাড়তে পারে।
বিজেপির অভিযোগ, পুরুলিয়ার তৃণমূল প্রার্থী সুজয় ব্যানার্জি ভোট চলাকালে বুথের সামনেই এক বিজেপি কর্মীকে গুলি করার হুমকি দিয়েছেন। পুরুলিয়ারই মুনসেপডাঙার ১২৭ নম্বর বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বচসা হয়। সেখানেই এক বিজেপি কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
তৃণমূলের অভিযোগ, পুরুলিয়ার ঐ বুথে ইভিএমের প্রতি তিন নম্বর ভোট বিজেপিতে পড়ছে। অন্য দলে ভোট দিলেও সেই ভোট যাচ্ছে বিজেপিতেই। বিজেপি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বুথের প্রিজাইডিং অফিসার জানান, ভোট ঠিকঠাকই পড়ছে। ইভিএমে কোনো কারচুপি হয়নি।
এদিন সকালে নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর ভাই বিজেপি নেতা সৌমেন্দুর গাড়িতে হামলা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। গড়বেতায় বিক্ষোভের মুখে পড়েন সিপিএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। তাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। গড়বেতার আঁধারনয়ন স্কুলে তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। দাতনের মোহনপুরে পতাকা ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শালবনির আমলাশোলে সিপিএম-বিজেপি সংঘর্ষে জখম হন দুই বাম কর্মী। বেশ কিছু জায়গায় আবার বুথ দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন দাবিতে ছাতনার দুইটি এবং রানিবাঁধের একটি বুথে ভোট বয়কট করা হয়। তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় পক্ষেরই দাবি, এই দফার বেশির ভাগ আসন যাবে তাদের দখলে।