শুক্রবার (২৬ মার্চ) রাজশাহীতে বাস, মাইক্রোবাস ও লেগুনার ত্রিমুখী সংঘর্ষে ১৭ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রংপুরে বইছে কান্নার আহাজারি। জানা গেছে, দুর্ঘটনায় নিহত ১৭ জনই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চার ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঐ দিন পীরগঞ্জ থেকে মাইক্রোবাসে করে রাজশাহীতে ঘুরতে যাচ্ছিলেন তারা।
শনিবার সকালে (২৭ মার্চ) উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় রাজারামপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের স্বজনরা কবর খোঁড়া খুঁড়িতে ব্যস্ত। কেউ করছেন বাঁশ কাটাকাটি। ঘরে ঘরে চলছে কোরআন তিলাওয়াত। চারদিকে শোকাবহ পরিবেশ। লাশের অপেক্ষায় থাকা মানুষগুলোর চোখ তখনও অশ্রুসিক্ত। রাতভর আহাজারি করতে করতে এখন তারা শোক জানানোর ভাষাই যেন হারিয়ে ফেলেছেন।
পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র জানান, দুর্ঘটনার পর মাইক্রোবাস থেকে ১১ যাত্রীর পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আরও দগ্ধ ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে তাদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। তবে মাইক্রোবাসে থাকা সবার মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন রংপুরের পীরগঞ্জের চৈত্রকোল ইউনিয়নের বড় রাজারামপুরের সালাহউদ্দিন (৩৬), তার স্ত্রী সামছুন্নাহার (২৮), ছেলে সাজিদ (৭), মেয়ে সাফা (৪), সামছুন্নাহারের বড় বোন কামরুন্নাহার (৪১), রামনাথপুর ইউনিয়নের বড় মজিদপুরের ফুল মিয়া (৪০), তার স্ত্রী নাজমা (৩৫), মেয়ে সাবিয়া (৪), মেয়ে সুমাইয়া (৮), ছেলে ফয়সাল (১৩), রায়পুর ইউনিয়নের দ্বাড়িকাপাড়ার মোখলেছার (৪৫), তার স্ত্রী পারভীন (৩৫), ছেলে পাভেল (১৯), মিঠিপুর ইউনিয়নের দ. রামিঠিপুর দক্ষিণপাড়ার শহিদুল মিয়া (৪৫), পৌরসভার প্রজাপাড়ার তাজুল করিম ভুট্টু (৪৫), তার স্ত্রী মুক্তা বেগম (৩৫) ও ছেলে ইয়াসিন (১৪)।
বড়রাজা রামপুর গ্রামের নিহত সালাহউদ্দিনের চাচাতো ভাই নুরুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্ত্রী-তিন সন্তান ও বড় শ্যালিকাকে সঙ্গে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে রাজশাহীতে ঘুরতে যান সালাহউদ্দিন। ওই মাইক্রোবাসে আরো ১৩ জন যাত্রী ছিল। তারা সবাই পীরগঞ্জের বাসিন্দা।
ইত্তেফাক/এসজেড