এ সময়ের নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে খুব সফলভাবে পর্দায় উপস্থিতি মুকিত জাকারিয়া’র। মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আবিষ্কার তিনি। একইসঙ্গে এই গুণী নির্মাতার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই দর্শক-ভক্ত তৈরি হয়। সাম্প্রতিক নাটকের হাল-হকিকত, সময়-প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে তানভীর তারেক-এর আড্ডায় কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন এ এম রুবেল
বর্তমান কাজের ব্যস্ততা নিয়ে শুনতে চাই—
ঈদের অনেকগুলো কাজ করছি একসঙ্গে। এ সময় এগুলোর নাম বলতে পারবো না। আর হাফডজন বিজ্ঞাপনের কাজ শেষ করলাম। সেই হিসেব করে দেখলাম ক্যারিয়ারে আর ৪টি বিজ্ঞাপন করা হলে আমার ১০০ পূর্ণ হবে।
ক্যারিয়ারের শুরুতে নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়। আপনার যাত্রাটা কেমন ছিল?
আমি এক্ষেত্রে অনেক সৌভাগ্যবান। আমাকে এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়নি। আমি যদিও মঞ্চ থেকে আসিনি, তবে মঞ্চ থেকে এলে অভিনয়ের খুঁটিনাটি শিখে আসা যায়। আর আমি অভিনয় করি জেদ থেকে, অনেক দুঃখ থেকে। আমার বস’সহ কিছু মানুষের করা অপমান আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে।
নানা সময় অনেক নাটক-সিনেমা দেখেন। এর মাঝে কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের প্রত্যাশা থাকে?
সত্যি বলতে আমি কোনো নাটক বা সিনেমা দেখি না বললেই চলে। আমি আমার স্টাইলে চলতে পছন্দ করি। আমি আমার মতো করে নিজেকে উপস্থপন করে করতে চাই। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে কাজ করে নিজেকে নিজেই ভাঙার চেষ্টা করি।
দেশের ইন্ডাস্ট্রিতে এক ধরনের সিন্ডিকেট চলমান রয়েছে। নিজেস্ব ঘরানা বা গণ্ডির বাইরে কাজ করছে না বা করাচ্ছে না। আপনার অভিজ্ঞতা কেমন?
এখানে আমার কোনো ঘরানা নেই। এক্ষেত্রে আমার বিষয়টি অনেকটাই ভিন্ন। কেন যেন সবাই আমাকে অনেক ভালোবাসেন। সবাই আমাকে নিয়ে কাজ করেন।
নাটকে অশ্লীলতা এখন আপেক্ষিক শব্দ! এটা কী শুধু ভিউ বাড়ানোর জন্য, নাকি বাণিজ্যক কোনো কারণ আছে বলে মনে করেন?
আমার মনে হয় এটা যারাই করুক সেটা নিঃসন্দেহে খুবই খারাপ হচ্ছে। আমি সবসময়ই ভালো সংলাপ বা ভালো কাজের পক্ষে। কারণ নাটক হচ্ছে সমাজের প্রতিচ্ছবি। তবে যারা করছেন তাদেরও আমি নানা সময় স্রোতে গা ভাসাতে নিষেধ করেছি। আমি তাদের আবারো বলবো অশ্লীল সংলাপ বা আচরণগত এমন কিছু করবেন না যা দেশের মানুষের সুন্দর মনকে কুলষিত করে।
এখন নাটক এজেন্সি বা কর্পোরেট ব্যক্তিদের দখলে চলে গেছে। কোনো জবাবদিহিতা থাকছে না। এই পরিবর্তনটা কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
এটা খুবই খারাপ হচ্ছে। আমাদের নাটকের ভাষা অনেক বেশি বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। এই বিষয়টির লাগাম এখনই টেনে ধরতে হবে। এ ধরনের কাজ বন্ধ না করতে পারলে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য খারাপ কিছু বয়ে আনবে। আমরা যদি একটু শালীনতা বজায় রেখে এবং রিলিজের বিষয়ে নিয়মনীতি করতে পারি, তবে অবশ্যই এ ধরনের কাজ বন্ধ হয়ে যাবে।
কিন্তু এ ধরনের কাজ নিয়ে ক’দিন আগেই আপনারা দু-ভাগে ভাগ হয়ে যান...
এমন হচ্ছে বলেই দেশটি রসাতলে যাচ্ছে। অশ্লীলতা না থাকলে কী ভালো কাজ হয় না? আমাদের সংস্কৃতিতে কী ভালো গল্প নেই! আপনাকে ভাবতে হবে আমাদের সংস্কৃতির সঙ্গে কোনটা যায় বা সংস্কৃতি রক্ষায় কী ভূমিকা রাখছি।