তারুণ্যের স্বাধীনতা

চলছে স্বাধীনতার মাস। সেই সঙ্গে পূর্ণ হতে চলল স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী।

স্বাধীনতা ও বিজয় অর্জনের মাধ্যমে বাঙালি পেয়েছে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, নির্দিষ্ট রাষ্ট্র, মাতৃভাষার অধিকার ও বিশ্বের মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়াবার ঠায়। তবে স্বাধীন

রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়াটাই কি কেবল স্বাধীনতার মানদণ্ড! হয়তো বা না। নিজের ইচ্ছে ও বিবেকের সংমিশ্রণে বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্বাধীনতার। স্বাধীনতার সংজ্ঞা একেক জনের কাছে একেক রকম। কারো কাছে স্বাধীনতা মানে পূর্ণ অধিকার নিয়ে বাঁচা। আবার, কারো কাছে স্বাধীনতা মানে নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা। তরুণ-তরুণীদের ভাষায় স্বাধীনতার সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজা খানম ঊর্মি

নিজের অধিকারের মর্যাদা

পাওয়াটাই স্বাধীনতা

কবি শামসুর রাহমানের ‘স্বাধীনতা তুমি’ কবিতার   মতো সামাজিক চুক্তিতে আবদ্ধ রাষ্ট্রীয় জীবনে চূড়ান্ত স্বাধীনতাচর্চার সুযোগ নেই। আমাদের নাগরিক জীবনে স্বাধীনতার সীমা আছে, সীমা আছে ব্যক্তিগত স্পেইস তৈরির ধারণার মধ্যে। রাষ্ট্রীয়ভাবে আমার দেশ সাম্রাজ্যবাদী সব রাষ্ট্রগুলোর হস্তক্ষেপের বাইরে থাকবে ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হবে অভ্যন্তরীণ নীতির আলোকে—এমনটাই স্বাধীনতার অর্থ। তবে ব্যক্তিজীবনে স্বাধীনতা বলতে বুঝি, সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যবোধকে আঘাত না করে, ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে না গিয়ে, রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধকে প্রভাবিত না করে, নিজের জীবনটাকে নিজের মতো চালনা করতে পারাকে। আমার মতপ্রকাশের   অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার আর নিরাপত্তার অধিকারকে সম্মান জানাবে রাষ্ট্র—স্বাধীনতা বলতে আমি এটাও বুঝি।

—মাহবুবুর রহমান মাসুম

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিজে

নিতে পারাটাই স্বাধীনতা

১৯৭১-এ স্বাধীনতা লাভের মাধ্যমে আমরা পাই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। পাই বাংলায় কথা বলার স্বাধীনতা। কিন্তু ঠিক কতটা স্বাধীনতা আমরা নিজের ইচ্ছে পূরণে কিংবা মতপ্রকাশে পাই? আমার কাছে স্বাধীনতা মানে উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় হাঁটা নয়, আবার মেয়ে বলে সারা দিন ঘরের কোণে পড়ে থাকাও নয়। আমার কাছে স্বাধীনতা মানে স্কুলের প্রোগ্রামে নিজের পছন্দের বিষয়ে অংশ নেওয়া, পাঠ্য বইয়ের বাইরেও পছন্দমতো বইপড়া, নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারা; যেমন—মাধ্যমিকের পর সায়েন্স ছেড়ে আর্টস পড়ার সিদ্ধান্ত ও এইচএসসির পর নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারাকে আমি ব্যক্তিস্বাধীনতা বলি। কিন্তু আমাদের দেশের বেশির ভাগ মা-বাবাই তাদের সন্তানের ইচ্ছের গুরুত্ব না দিয়ে নিজেদের পূরণ না হওয়া শখ বা ইচ্ছেগুলো সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেন।

—কাজী রাফিদা ফারিহা

শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

নিজস্ব চিন্তাধারার সুন্দরতম বহিঃপ্রকাশের নাম স্বাধীনতা

আমার কাছে স্বাধীনতা মানে প্রত্যেকটা মানুষের যে কোনো বিষয়ে নিয়ে বলতে পারার এবং যে কোনো কাজ করতে পারার স্বাধীনতা। তবে অবশ্যই আইনের অনুশাসন আর অন্যের স্বাধীনতা খর্ব না করার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। স্বাধীনতা মানে নিজের চিন্তাধারাগুলোকে সুন্দরভাবে প্রকাশ করার সুযোগ। স্বাধীনতা মানে প্রত্যেকটা মানুষের সোশ্যাল মিডিয়ায় মতামত প্রকাশের সুযোগ। মানুষ তার যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কাজ করতে পারলেই স্বাধীনতা উপলব্ধি হয়। হোক সে নারী কিংবা পুরুষ, সমান অধিকার ও সম্মান নিয়ে এগিয়ে চলাটাই স্বাধীনতা।

—বিশাল মজুমদার জয়

শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

স্ব-অধীনতাই

স্বাধীনতা

স্বাধীনতা শব্দটির শব্দাংশ বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় স্ব-অধীনতা। অর্থাত্, নিজের অধীনে চলা। মোদ্দাকথা, যে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি সে স্বাধীনতা লাভ করেনি। মূলত স্বাধীনতা বলতে আমরা বাক স্বাধীনতা কিংবা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বুঝি। স্বাধীনতার বিশ্বজনীন ভাষাই হলো মানবিক মুক্তি। বর্তমানে এই মানবিক মুক্তির বিপর্যয় দৃশ্যমান বেশির ভাগ নারীর ক্ষেত্রে। পড়াশোনায় ভালো থাকার পরেও খর্ব করা হয় পড়ার অধিকার। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও বাইরে বেরিয়ে উপার্জন করার অধিকার পান না সিংহভাগ নারী। বাঙালি স্বাধীন জাতি হলেও পূর্ণাঙ্গরূপে স্বাধীনতা পেতে প্রতিটি বাঙালির হাঁটতে হবে আরো অনেকটা পথ।

—সিদরাত জাহান মনিরা

শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।