মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদান কতটা স্বীকৃত হয়েছে? মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নারীর মূল্যায়ন কতটুকু?
স্বাধীনতার ঠিক পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধে নারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়ের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। বরং নারীকে শুধু নির্যাতনের শিকার হিসেবেই চিহ্নিত করা হতো। নারী আন্দোলন ও মানবাধিকার আন্দোলন কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সে ধারণা এবং মনোভাবের পরিবর্তন ঘটেছে। এখন মুক্তিযুদ্ধে নারীর অবদানের কথা নানা দিক থেকে তত্ত্বগতভাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বীর প্রতীক নারীরা আবিষ্কৃত হয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। তবে সব নারী মুক্তিযোদ্ধাকে খুঁজে বের করা হয়েছে কি না, সেটা নিয়ে প্রশ্ন আছে। বীরাঙ্গনা নারীরা মুক্তিযোদ্ধার পরিচয়ে ভূষিত হয়েছেন, সেটাও একটি অর্জন।
একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সমাজে বর্তমানে বীরাঙ্গনা নারী স্বীকৃতি কতটুকু? তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে তাদের ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তি বা অর্জন কিছু আছে বলে আপনি মনে করেন?
রাষ্ট্র তাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সেটা ইতিবাচক। সমাজে এর স্বীকৃতির বিষয়টা জটিল। উপরে যা বলেছি, তাদের অবদান কেউ এখন সরাসরি অস্বীকার করার ঔদ্ধত্য দেখাবে বলে মনে করি না। তবে পরিবার, সমাজ তাদের কতখানি আন্তরিকতার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদায় গ্রহণ করে ব্যক্তিজীবনে সেটা একেক জনের জন্য একেক রকম। অনেক পরিবার তাদের এই পরিচয় নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে অথচ মানুষটাকে তার যথাযথ স্থান দেয় নাই, এমন দৃষ্টান্তও আছে। আমি যতটুকু জানি আগের চেয়ে তারা ভালো আছেন। তবে দীর্ঘ সময় তাদের অবহেলা ও লাঞ্ছনার মধ্যে কাটাতে হয়েছে, যার কোনো প্রতিকার হয় না। সেটা দুঃখজনক। ব্যক্তিগতভাবে একদম যে তাদের কোনো অর্জন নেই, তেমন বলা যাবে না।
স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে নারী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনার উপলব্ধি ব্যক্ত করেন?
নারীরা এদেশের নাগরিক। অন্য সবার মতো তাদেরও দেশপ্রেম আছে, কর্তব্যবোধ আছে, নাগরিক দায়িত্ব আছে। সেই বোধ থেকেই মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়া। তাই সব মুক্তিযোদ্ধার জন্য যে উপলব্ধি নারীদের জন্যও তেমন করেই ভাবি। আজকে স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষ্যে এটুকু বলতে পারি, নারী বলে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখি নাই, সেজন্য গর্ব অনুভব করি।
কেমন দেশের স্বপ্ন নিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন?
সে দেশ কি অর্জিত হয়েছে?
দেশের স্বপ্ন সবার যেমন ছিল আমারও তার ব্যতিক্রম কিছু নয়। আমাদের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে তা স্পষ্টভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আমরা বলেছি আমরা মুক্তিযুদ্ধ করছি ‘সাম্য, মানব মর্যাদা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে।’ না, এখনো পুরাপুরি অর্জিত হয় নাই। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র, কিছু প্রগতিশীল সংশোধনীসহ বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি সর্বোপরি স্বাধীনতা আন্দোলনের সার্বিক প্রক্রিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনা মেনে দেশ পরিচালনা করলে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের খুব কাছাকাছি পৌঁছুতে পারব বলে আমি মনে করি।
—রাবেয়া বেবী