কর ফাঁকি রোধে প্রাথমিক টার্গেট বাড়ির মালিক ও ব্যবসায়ীরা
রিয়াদ হোসেন
কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে করের আওতার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের করজালে আনতে এবার সিটি করপোরেশনের দ্বারস্থ হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সিটি করপোরেশনের কাছে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য সংগ্রহে তথ্যভান্ডারে (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টার) প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এই তথ্য পাওয়া গেলে রাজধানীতে বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মালিকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে। এমনকি কার নামে কয়টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তথা প্রতিষ্ঠানের মালিকদেরও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে কাদের টিআইএন (করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর) রয়েছে বা টিআইএন থাকলেও রিটার্ন জমা দিচ্ছেন কি-না, তা চিহ্নিত করা হবে। পুরো কার্যক্রমটি এনবিআরের অনলাইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে করা হবে। একইভাবে এনবিআরের কাছে থাকা টিআইএনের তথ্যও যাচাই করতে পারবে সিটি করপোরেশন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। চিঠিতে সিটি করপোরেশনের তথ্যভান্ডারে প্রবেশে মেয়রের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
অবশ্য নিজেদের তথ্যভান্ডারে এনবিআরকে প্রবেশাধিকার দেওয়া যাবে কি-না, তার আইনগত দিক যাচাই করছে সিটি করপোরেশন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরী ইত্তেফাককে বলেন, এনবিআরের এ ধরনের একটি আবেদন আমরা পেয়েছি। তবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখানে নাগরিকের গোপনীয়তার কোনো বিষয় রয়েছে কি না, কিংবা তা আইনে কতটুকু কাভার করে—তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে করদাতা বাড়াতে ম্যানুয়ালি চেষ্টা করলেও কর ফাঁকিবাজরা নানা কৌশলে পার পেয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে অনলাইন ব্যবস্থায় তথ্য সংগ্রহ ও তা যাচাইয়ে গুরুত্ব বাড়িয়েছে আয়কর বিভাগ। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করেছে কর বিভাগ। ইতিমধ্যে এর সফলতাও পেতে শুরু করেছে কর বিভাগ। এনবিআর সদস্য প্রদ্যুত্ কুমার সরকার ইত্তেফাককে বলেন, কোনো গাড়ির নিবন্ধনের আবেদন যাচাইকালে এনবিআরের ই-টিআইএনের তথ্য অনলাইনে যাচাই শুরু করেছে বিআরটিএ। ইতিমধ্যে প্রায় ৫ লাখ ভুয়া টিআইএনধারী চিহ্নিত হয়েছে। অতীতে গাড়ি নিবন্ধনের আবেদনকালে টিআইএনের হার্ড কপি জমা দেওয়ার সুযোগ ছিল। এটি ম্যানুয়ালি যাচাই হতো। কিন্তু বর্তমানে অনলাইনে যাচাই শুরু হওয়ায় ঐসব ভুয়া টিআইএন চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে ১২৮টি দামি গাড়ির নিবন্ধন নেওয়া হয়েছে ভুয়া টিআইএনের মাধ্যমে। কত সংখ্যক গাড়ির নিবন্ধন ভুয়া টিআইএনের মাধ্যমে হয়েছে, তা আগামী ডিসেম্বর নাগাদ জানা যাবে বলে জানান তিনি।
এনবিআরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ঢাকায় বাড়ির মালিকদের তথ্য সংরক্ষণ করে সিটি করপোরেশন। এছাড়া সিটি করপোরেশনের আওতায় ব্যবসায়ের ট্রেড লাইসেন্সও দেওয়া হয়। অনেক বাড়ি কিংবা অ্যাপার্টমেন্টের মালিক রয়েছেন, যাদের টিআইএন নেই। কিংবা থাকলেও রিটার্ন জমা দেন না। আবার কারো কারো হয়তো চারটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে, তিনি কর ফাইলে দেখাচ্ছেন একটি।