ইউপি নির্বাচন

খুলনায় বাড়ছে সহিংসতা

আগামী ১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুলনার তৃণমূলে সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ভোটের উত্তাপ ততই বাড়ছে। ইতিমধ্যে খুলনার পাইকগাছা ও দীঘলিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি সহিংস ঘটনা ঘটেছে। হামলা চালিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীসহ অর্ধশতাধিক কর্মীকে আহত করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে বাড়িঘর ও মোটরসাইকেল। ফলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

এদিকে প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান ধরে রাখতে প্রাণপণে লড়ছেন। দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে নিজের প্রতীকের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন। একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কালোটাকা ছড়ানোসহ নানা অভিযোগ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শনিবার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের বেতবুনিয়া গ্রামে পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মান্নান গাজীর নেতৃত্বে বর্তমান চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হকসহ প্রায় ২৫ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করা হয়। এ সময় ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘর ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল। পুলিশ ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অন্যদিকে একই দিন দুপুর ১টার দিকে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মান্নান গাজীর সমর্থকেরা স্বতন্ত্র প্রার্থী এনামুল হকের সমর্থক চারবান্ধা গ্রামের অমল ঢালীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় অমল ঢালী, দীপ্তি ঢালী, পুষ্পিতা ঢালী ও শ্যামল ঢালীসহ চার জন আহত হয়। এছাড়া একই উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ছয় জন প্রার্থী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে শাহজাদা মো. আবু ইলিয়াস (চশমা) স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মুনছুর আলী গাজী। তিনি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দলের শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, শাহজাদা আমেরিকায় থেকে পয়সাকড়ি কামাই করে এনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। এতে দলের লোকজন তাকে ইন্দন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী শাহজাদা মো. আবু ইলিয়াস পালটা অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সুষ্ঠু নির্বাচনের ঘোষণায় আশ্বস্ত হয়ে তিনি স্বতন্ত্র পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুনছুর আলী গাজীর লাঠিয়াল বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়েছেন তিনি। তার কর্মীদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি নির্বাচনি অফিসও করতে পারছেন না। এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদের অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল ইসলাম (ঘোড়া) বলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর উত্তাপে তিনি শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এমনকি এর আগে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মুনছুর আলী গাজী তাকে মনোনয়নপত্র জমা দিতেও নিষেধ করেছিলেন। এদিকে দীঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ও সেনহাটি ইউনিয়নে নির্বাচনি সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। উক্ত দুটি ইউনিয়নে গত শুক্রবার ও শনিবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে কমপক্ষে ১০-১৫ জন আহত হয়েছে। হামলার ঘটনায় পুলিশ ৯ জনকে আটক করেছে।

দীঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গাজী জাকির হোসেনের কর্মী-সমর্থকেরা গত শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় নন্দন প্রতাপ গ্রামে উঠানবৈঠকের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থী আনসার শেখের লোকজন নন্দন প্রতাপ ব্রিজের পাশে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে কমপক্ষে ১০-১৫ জন আহত হয়। এছাড়া চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া এ ঘটনার পর বারাকপুর বাজার ও লাখোহাটি গ্রামে প্রতিপক্ষরা গাজী জাকিরের সমর্থকদের চারটি দোকান ভাঙচুর করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের শিববাড়িসংলগ্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জিয়া গাজীর (আনারস) উঠানবৈঠকের জন্য আয়োজনকৃত প্রায় ৪০০ চেয়ার-টেবিল পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নৌকার কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এছাড়া গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজীগ্রামে জিয়া গাজীর নির্বাচনি অফিসও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রবিবার জিয়া গাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচন অফিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।