নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি মাদরাসার কমিটি নিয়ে দন্ধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় মাহফিলকে সামনে রেখে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশংকায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘর্ষ এড়াতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে মাহফিল স্থগিতের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
উপজেলা সদরের হিড়িভিটা গ্রামে হিড়িভিটা মফিজিয়া তালিমূল কুরআন নুরানী হাফিজিয়া মাদরাসায় ধর্মীয় মাহফিলকে সামনে রেখে এ উত্তেজনা বিরাজ করছে। ওই সংঘর্ষ এড়াতে নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে ধর্মীয় মাহফিল স্থগিতের দাবীতে এলাকাবাসীর পক্ষে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পূর্বধলা থানার অফিসার-ইনচার্জ (ওসি) বরাবরে অনুলিপি দিয়েছেন হিড়িভিটা গ্রামের জনৈক দুলাল তালুকদার।
প্রাপ্ত লিখিত আবেদন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদরাসার মোহতামিম ও পরিচালক হাফেজ উমর ফারুক হঠাৎ কোনো কারণ ছাড়াই চলমান মাদরাসা
কমিটির বৈধ সভাপতিকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন করে আগামী ৩১ মার্চ ধর্মীয় মাহফিলের আয়োজন করে প্রচার প্রচারণা করছেন। এতে এলাকায় প্রকাশ্যে দুটি গ্রুপ বিভক্ত হওয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মালেক তালুকদার জানান, গত দুই মাস আগে মাদরাসা কমিটির এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে ওই মাদ্রাসার সভাপতি করা হয়। এখন কি কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে বিষয়টি তার জানা নেই। এতে তার সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জানান, এর আগেও কমিটি নিয়ে দন্ধের কারণে গত বছর ৮ ফেব্রুয়ারি আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি
করেছিল। যার কারণে ওই মাদরাসার ধর্মীয় মাহফিল পণ্ড হয়েছিল।
মাদরাসার মোহতামিম ও পরিচালক হাফেজ উমর ফারুক তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত দুমাস আগে মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভা অনুষ্ঠিত হলেও ওই দিন কমিটি গঠন করা হয়নি। গত দেড়মাস আগে সর্বসম্মতিক্রমে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে তাতে আব্দুল মালেক
তালুকদারকে সভাপতি করা হয়নি।
পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে কুলসুম জানান, ধর্মীয় মাহফিল স্থগিতের দাবিতে একটি লিখিত আবেদন তিনি পেয়েছেন। খোঁজ নিয়ে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ইত্তেফাক/এসজেড