শূন্য থেকে সফল যিনি

>> রেজাউল ইসলাম রেজা

 

স্নাতক পাশ করা একজন তরুণের চোখে হাজারো স্বপ্ন থাকে। কিন্তু সেই স্বপ্ন প্রায়শই আটকে যায় এমপি থ্রি কিংবা চাকরির বইয়ের পাতায়। ক’জন আছে যারা এগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলতে জানে। চাকরির পিছনে না ছুটে চাকরি দেওয়ার মনোবাসনায় ছুটে চলে প্রতিনিয়ত। এমনি একজন তরুণ সফল উদ্যোক্তা হলেন আব্দুল হাকিম নাহিদ। আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি ছিলেন একজন ভালো বিতার্কিক। একজন বিতার্কিকের জন্য আইনজীবী পেশা নিঃসন্দেহে উপযুক্ত হলেও আন্দরকিল্লার প্রেসের খটখট শব্দ, নতুন বইয়ের ঘ্রাণ তাকে সবসময় বিমোহিত করতো। তাই ভিন্ন কিছু করার প্রয়াসে নেমে পড়লেন পত্রিকা প্রকাশনার কাজে। প্রকাশিত হলো সাপ্তাহিক  ‘দ্বীপশিখা’। কয়েক সংখ্যা প্রকাশের পরই বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেল পত্রিকাটি। এরপর প্রকাশিত হলো মাসিক ‘কিশোর শিখা’। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং শিক্ষামূলক কলামের জন্য সহজেই পাঠকহূদয়ে স্থান করে নিলো প্রকাশনা দুটি। অল্প কিছুদিন যেতে না যেতেই মাথার উপর মামলার বোঝা। তাও সেই পত্রিকার জন্য। চালিয়ে গেলেন আইনি লড়াই। তারপর আবারও নতুন স্বপ্ন। নতুন আশা। এবার শুরু করলেন বই প্রকাশনা। নাম দিলেন ‘দাঁড়িকমা’ প্রকাশনী। কাগজের গন্ধ আর প্রেসের শব্দের প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া এই যুবক টিউশনির টাকা জমিয়ে ও নিজের বাসাকে অফিস বানিয়ে নেমে পড়লেন প্রকাশনা শিল্পের কাজে। ২০১৫ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হলো দাঁড়িকমা প্রকাশনীর। কিছুদিন যেতে না যেতেই আর্থিক সংকটে  পড়লেও ২০১৬ সালে ঢাকার বই মেলায় স্টল বরাদ্দ পায় তার প্রকাশনী। এরপর থেকে তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২০ সাল পর্যন্ত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বইমেলায় অংশগ্রহণ করে দাঁড়িকমা। প্রায় সাড়ে তিন শ’ লেখকের চার শতাধিক বইয়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে  দাঁড়িকমা। একটা সময় চাকরির আবেদন নিয়ে না দৌড়ানো সেই তরুণের কাছেই এখন প্রতি মাসে জমা পড়ে অসংখ্য চাকরির আবেদন!