করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারী বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে মাদরাসা প্রাঙ্গনে ওয়াজ মাহফিল চলছিল। আর সে ওয়াজ মাহফিলকে ঘিরে এলাকার দুই পক্ষের আধ্যিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘটেছে সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা। আহত হয়েছেন দু’পক্ষের কমপক্ষে ৬ জন।
বুধবার (৩১ মার্চ) বিকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা সদর ইউনিয়নের হিড়িভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে আহতরা হলেন ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ (৪৫), জালাল উদ্দিন (৩৯), আবু সায়েম (৩২), আ: রাজ্জাক (৬০), খোরশেদ জমা (৪৮) ও মমিন মিয়া (৩৮)। এদের মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সায়েমকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও বাকিদের পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, পূর্বধলা সদর ইউনিয়নের হিড়িভিটা গ্রামের মফিজিয়া তা’লিমুল কুরআন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদরাসার কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে ওই গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুল মালেক তালুকদার ও তার ভাতিজা উপজেলা জাতীয় পার্টির (জাপা) সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ এবং ওই মাদ্রসার পরিচালক হাফেজ ওমর ফারুক সমর্থকদের মধ্যে মাদ্রাসার কমিটি ও এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মাদরাসার পরিচালক হাফেজ ওমর ফারুক বুধবার (৩১ মার্চ) সেখানে ওয়াজ মাহফিল আহ্বান করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ওই গ্রামের দুলাল তালুকদার ওয়াজ-মাহফিল বন্ধের জন্য জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বরাবর আবেদন করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। বুধবার বিকালে ওয়াজ মাহফিল চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে।
খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, সভার আয়োজকরা আগে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে কোন রকম অনুমতি নেয়নি। সংঘর্ষের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন জাহান সেতুকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি সেখানে গিয়ে ওয়াজ মাহফিলটি বন্ধ করে দিয়ে এসেছেন।
ইত্তেফাক/এসজেড