জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। এ সংক্রমণ রোধে বুধবার রাতে জেলা প্রশাসন জনসমাগমের স্থানগুলোতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এক গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জেলায় সব ধরনের জনসমাগম, সব পর্যটন কেন্দ্র, সিনেমা হল, বিনোদন কেন্দ্র ও কমিউনিটি সেন্টারের সব কার্যক্রম আগামী ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। বিদেশ থেকে জেলায় আগত যাত্রীদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খেরশেদ আলম খান বলেন, ‘এ আদেশ যারা মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি জানান, জেলা সদর ও উপজেলা সদরগুলোর বিভিন্ন স্থানে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ নিশ্চিতকরণে সচেতনতামূলক পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। গত এক সপ্তাহে মাস্ক পরিধান না করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত ৮৭ জনকে সাড়ে ৫৭ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করে। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে ৫ হাজার মাস্ক বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে গণপরিবহনে অর্ধেক আসন খালি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণও করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে জেলার পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, গত এক সপ্তাহে ২ হাজারের বেশি মাস্ক বিতরণ করেছে পুলিশ প্রশাসন।
এদিকে বুধবার জেলার কোভিড হাসপাতালে আবদুল মালেক (৬৫) নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার কতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা। মঙ্গলবার বিকালে তিনি জেলা সদরের শহিদ ভুলু স্টেডিয়ামের অস্থায়ী কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের কো-অর্ডিনেটর ডা. নিরূপম দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কোভিড হাসপাতালে ভর্তিকৃত ১৪ রোগীসহ ২৪ জন চিকিত্সাধীন রয়েছেন। তার মধ্যে সাত জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।’ এদিকে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে প্রতিদিন জেলায় করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। গত তিন দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে ১২৭ জন এবং একজন মারা যান। বেগমগঞ্জ, সদর ও সোনাইমুড়ী উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। কোভিড হাসপাতাল ছাড়া হোম আইসোলেশনে ৩৬৭ জন চিকিত্সাধীন রয়েছেন।