কাঁচাবাজারে স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই বেচাকেনা

দেশে করোনা সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বাড়লেও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না বেশির ভাগ মানুষ। বিশেষ করে কাঁচাবাজারে কমেনি ভিড়। সামাজিক দূরত্ব না মেনেই গাদাগাদি করে এখনো কেনাকাটা করতে দেখা যাচ্ছে মানুষকে। অথচ করোনা সংক্রমণ বাড়ায় বাজার-শপিংমলে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত, গণপরিবহনে অর্ধেক আসন ফাঁকা রাখা ও জনসমাগম সীমিত করাসহ ১৮ দফা নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। তবে এ বিষয়ে নির্দেশনা মানতে মাঠ পর্যায়ে দেখা যায়নি প্রশাসনের তত্পরতা।

সরেজমিনে কাওরান বাজার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়াই অনেকে কেনাকাটা করছেন। মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। ক্রেতাদের কারো কারো মুখে মাস্ক থাকলেও বিক্রেতাদের বেশির ভাগের মুখে মাস্ক নেই। অনেকে মাস্ক পরলেও তা নেই সঠিক স্থানে। এ বিষয়ে একেক জন দিচ্ছেন একেক অজুহাত। কাঁচাবাজারগুলোয় দেখা যায়—সবজি, মাছ, মুদি, ফল বিক্রেতাসহ অধিকাংশ দোকানদারই মাস্ক ছাড়া পণ্য বিক্রি করছেন।

আশকোনা কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে একই দৃশ্য। সংক্রমণ রোধে খুব কম মানুষই মাস্ক পরছেন। আশকোনার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, নির্দেশনা মানার জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে। নয়তো এভাবেই চলবে। করোনা বাড়লেও অনেকের সংক্রমণের ভয় নেই। তাদের বাধ্য করতে হবে বলেও তিনি জানান। এ ছাড়া শপিংমলগুলোতেও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। জীবাণুমুক্ত করার জন্য কোনো আয়োজনই দেখা যায়নি কোনো দোকানে। এ ছাড়া বাজারে ছোট ছোট চায়ের দোকানে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। দূরত্ব বজায় না রেখেই এসব চলতে দেখা গেছে। 

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রজ্ঞাপন জারি করলেই চলবে না। স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে দেশে করোনা আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, করোনা রোগী বাড়ায় হাসপাতালগুলোয় আইসিইউ বেড ও অক্সিজেনের চাহিদা অনেক গুণ বেড়ে গেছে। সংক্রমণের লাগাম টেনে ধরা না গেলে ভয়াবহ রূপ নেবে দেশের সংক্রমণ পরিস্থিতি।