ভোটে বাধার অভিযোগে বুথে বসে পড়লেন মমতা দিদির মুখেই এক্সিট পোল :মোদি

পশ্চিমবঙ্গে বিক্ষিপ্ত সহিংসতা, গোলমালের মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হয়েছে। এই দফায় ৩০ আসনে গড়ে ভোট পড়েছে ৮২ শতাংশ। এদিকে বুথ দখল, ভোটদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নন্দীগ্রামের বয়াল বুথে বসে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি রাজ্য গভর্নর জগদীপ ধনকড়কে ফোন করেন।

অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জনসভায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক জনসভায় বলেন, দিদিই ‘ওপিনিয়ন পোল’, দিদিই ‘এক্সিট পোল’। তার চোখ-মুখ, হাব-ভাবেই সব স্পষ্ট। পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ যা চাইছে, নন্দীগ্রামে সেটাই হয়েছে। তিনি বলেন, দিদি প্রথমে ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন। পরে বুঝলেন সেটা ভুল করেছেন। নন্দীগ্রাম মমতার হারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি অন্য কোনো আসন থেকেও মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারেন। মোদি বলেন, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ২০০-এর বেশি আসনে জিতবে।

পালটা মমতার দাবি তিনি নন্দীগ্রামে জিততে চলেছেন। ৯০ শতাংশ ভোট পাচ্ছেন তিনি। তৃণমূল সূত্র জানিয়েছে, অন্য কোনো আসন থেকে মমতার লড়ার প্রশ্নই ওঠে না। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণ নিয়ে তার কোনো অভিযোগ নেই। শান্তিপূর্ণ ও অবাধ ভোট হয়েছে। তার দাবি—মমতা ব্যানার্জি হেরে যাবেন। নন্দীগ্রামে কী ঘটেছে তার রিপোর্ট চেয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

গতকাল বৃহস্পতিবার ৩০ আসনে ভোটগ্রহণ হলেও সবার নজর ছিল নন্দীগ্রামে। এই আসনে তৃণমূল প্রার্থী পশ্চিমবঙ্গেরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিন দিন ধরে তিনি এই কেন্দ্রে ছিলেন। ভোটের দিন সকালে তিনি বাসা থেকে বের না হলেও দুপুরে বয়ালের একটি বুথে গোলমাল, ভোটারদের আটকানো হচ্ছে এমন খবর পেয়ে হুইল চেয়ারে করে বের হন। পৌঁছে যান বুথে। তাকে ঘিরে ধরে বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকে। ফলে বুথের ভেতরেই আটকে পড়েন মমতা। দুই ঘণ্টা তিনি সেখানে ছিলেন। পরে পুলিশ এসে তাকে বুথের বাইরে নিয়ে যায়।

এদিকে, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা বিধানসভার শানরপুর, জালিবান্দা পূর্ব, জালিবান্দা পশ্চিম এবং রাধাকান্তপুর থেকে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কেশপুরে আহত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট।

আসামে ভোট পড়েছে ৭৩.৪ শতাংশ : আসামের বরাক অঞ্চলে দ্বিতীয় দফায় ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। গতকাল সেখানে ৩৯ আসনে ভোটগ্রহণ হয়। এই দফায় বেশি আসন পাবে বলে দাবি করেছে জাতীয় কংগ্রেস। এই অঞ্চলে মুসলিম ভোটার বেশি। ৬ এপ্রিল আসামে তৃতীয় দফায় বাকি ৪০ আসনে ভোটগ্রহণ হবে।