সরল বিশ্বাসে কেউ দুইবার ভোটার হলে মাফ করে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে উদ্দেশ্য অসত্ হলে মামলা দেবে। আর বিষয়টি যাচাই করবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি। গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন, ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। তিনি বলেন, বৈঠকে দ্বৈত ভোটারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের এবং বিকল্পভাবে নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে কমিটি করে শুনানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা।
অশোক কুমার বলেন, অনেকে না বুঝে সরল বিশ্বাসে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন। আবার অনেকে অসত্ উদ্দেশ্য নিয়ে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন। এজন্য মাঠ প্রশাসন থেকে কমিশন বিষয়টি যাচাই বাছাই করবে। এক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। জাতীয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডির) মহাপরিচালক কমিটি করে দেবেন।
ইসি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত ভোটার হওয়ার ঘটনা ঘটে। কিছুটা অজ্ঞতা বা অসচেতনতার কারণে। ভোটার হিসেবে নিবন্ধন হওয়ার পর দীর্ঘ সময়ে জাতীয় পরিচয়পত্র হাতে না পাওয়া, নিবন্ধনের স্লিপ হারিয়ে ফেলা, প্ররোচনা, শিক্ষা সনদ ও জন্ম নিবন্ধনের বয়সের সঙ্গে ভোটার হিসেবে বয়সের গড়মিল থাকায় দ্বিতীয়বার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। এছাড়া জেনে ও বুঝে উদ্দেশ্যমূলকভাবেও কেউ কেউ দ্বৈত ভোটার হয়ে থাকেন। দেশে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়নের পর থেকে প্রায় ৬ লাখের মতো নাগরিক দুইবার ভোটার হয়েছেন। আরো ৬ লাখের মতো নাগরিক দুইবার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে ৭৮তম কমিশন বৈঠকে রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যপদ পূরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। ইসির অতিরিক্ত সচিব বলেন, এ বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোকে চিঠি দেওয়ার। দলের সর্বস্তরে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব বাস্তবায়ন করার সময় ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর যে সুপারিশ আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি, সেটি পাশ না হওয়ায় বর্তমান আইন আনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি। উল্লেখ্য, কোনো দলই নিবন্ধনের এ শর্তটি পূরণ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ আরো পাঁচ বছর সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আলাদা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এতে দলগুলোকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত অর্থাত্ আরো ১০ বছর সময় দেওয়ার বিধান আনা হচ্ছে।